আয়কর রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই চার দরিদ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দরিদ্র থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা) চালক ও তিন নারীর আয়কর রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি ও জরিমানার টাকা মওকুফ করা হয়েছে।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার মো. মঞ্জুর রহমান।

তিনি বলেন, ওই চারজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ আয়কর দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যদি কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে ই-টিআইএন গ্রহণ করেন, নিয়ম অনুযায়ী তাকে আয়করের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা ঠিকানায় রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানা গেছে ওই চারজনই দরিদ্র।

মঞ্জুর আরও বলেন, পরবর্তীতে তাদের আবেদন করতে বলা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তাদের জরিমানা মওকুফ ও আয়কর পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আয়কর রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি ও জরিমানার টাকা মওকুফ হওয়া চার দরিদ্র হলেন- গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ গ্রামের ভ্যানচালক কবির ইসলাম বেপারীর স্ত্রী কল্পনা বেগম, একই গ্রামের থ্রিহুইলার (মাহিন্দ্রা) চালক ফারুক হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম, দিনমজুর মহসিন ব্যাপারী ও বিল্বগ্রাম এলাকার দিনমজুর চানমিয়া সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

সেলিনা বেগমের ছেলে কলেজছাত্র মাহফুজুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে বরিশাল উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে মায়ের আয়কর অবমুক্তির জন্য লিখিত আবেদনটি জমা দিই। এ সময় নোটিশ পাওয়া অন্য তিনজনের স্বজনরাও ছিলেন। তারাও আবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে কমিশন থেকে জরিমানার টাকা মওকুফ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এরকম নোটিশ আর পাঠানো হবে না বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নোটিশপ্রাপ্ত চারজনই দরিদ্র। একজন দিনমজুর। আর তিন নারীর মধ্যে একজনের স্বামী ভ্যানচালক, একজনের স্বামী থ্রিহুইলার (মাহিন্দ্রা) চালক, আরেকজনের স্বামী দিনমজুর। ২৪ আগস্ট মনোয়ারা বেগমের নামে, ২২ আগস্ট সেলিনা বেগমের নামে ও ২৮ জুলাই কল্পনা বেগম ও মহসিন বেপারীর নামে পৃথকভাবে বরিশাল উপ-কর কমিশনার কার্যালয়ের বৈতনিক শাখা থেকে উপ-করকমিশনার স্বাক্ষরিত নোটিশগুলো ইস্যু করা হয়।

মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, নোটিশ পেয়ে ওই তিন নারী ও দিনমজুর মহসিন ব্যাপারীর স্বজনরা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এরপর তারা আমার কাছে নোটিশগুলো নিয়ে আসেন। পড়ে বুঝতে পারি আয়কর পরিশোধ না করায় তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে নোটিশপ্রাপ্ত চারজনই দরিদ্র পরিবারের। এর মধ্যে মহসিন ব্যাপারী এবং সেলিনা বেগমের স্বামীর নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির রেশন কার্ডও আছে। এছাড়া অপর দুই নারীর স্বামীও গরিব। তাদেরও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয়। তখন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি বরিশাল কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নোটিশপ্রাপ্ত চারজনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানোর পর বরিশাল কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বরিশাল কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা চার দরিদ্রের জরিমানা মওকুফ ও আয়কর পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি দেন।

সাইফ আমীন/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]