টাকার অভাবে হয়নি উন্নত চিকিৎসা, জন্মের ৪ দিন পর শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড নিয়ে জন্ম নেওয়া নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা সদরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নবজাতক মারা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর একই ক্লিনিকে আগৈলঝাড়া উপজেলার বড়মগড়া গ্রামের রমেন জয়ধরের স্ত্রী অপু জয়ধর ওই শিশুর জন্ম দেন। জন্মের পর থেকেই নবজাতকের শারীরিক জটিলতা থাকায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। যদিও দরিদ্র দিনমজুর বাবার পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসার জন্য নবজাতকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তিসহ পরবর্তী অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানান।

অর্থের অভাবে সেখানে চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় দিনমজুর বাবা তার কন্যা সন্তানকে আবারও আগৈলঝাড়ার ওই ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। সোমবার বিকেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার জানান, অপু জয়ধরের প্রসব বেদনা উঠলে ১৬ সেপ্টেম্বর স্বজনরা তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করান। এরপর স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করা হয়। তবে রোগীর কিছুটা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর দেখা যায়, শিশুটির হৃৎপিণ্ড শরীরের ভেতরে নয়, বাইরে বের হয়ে রয়েছে। যে কারণে জন্মের পরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নবজাতকের মা আশংকামুক্ত।

ডা. হিরন্ময় হালদার আরও জানান, জন্মের পর নবজাতক শারীরিক জটিলতা দেখে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন দিনমজুর বাবা। উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েক লাখ টাকার কথা শুনে তিনি ভেঙে পড়েন। এরপরও কন্যা সন্তানকে বাঁচাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

রমেন জয়ধর বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দ্রুত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। ধার দেনার পর গাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করাই। তবে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান আইসিইউতে ভর্তিসহ অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। আমার পক্ষে এ ব্যয় নির্বাহ করা অসাধ্য বিষয়। সে কারণে মেয়েকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মেয়েকে উপজেলা সদরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভর্তি করেন।

আক্ষেপ করে রমেন জয়ধর বলেন বলেন, যদি আমার কাছে টাকা থাকতো, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে হয়তো মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

সাইফ আমীন/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]