প্রবাসীকে নিঃস্ব করে প্রেমিকের হাত ধরে পালালেন স্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২১

শিশুসন্তানসহ সৌদি আরবে স্বামীর কাছে চলে যাওয়ার সব আয়োজন ছিল চূড়ান্ত। জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট হাতে আসে মা-মেয়ের পাসপোর্ট। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মিলেছে ভিসা। চলে যাওয়ার তারিখ পড়ার আগে প্রবাসী স্বামীর সর্বস্ব লুটে পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়েছেন স্ত্রী।

কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের কালু ফকিরপাড়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে সবার অগোচরে পালানোর সময় স্বামীর পাঠানো নগদ ছয় লাখ টাকা, ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়েছেন তিনি। সাথে দুই বছরের শিশুসন্তানকেও নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযুক্ত গৃহবধূর নাম রোকসানা আকতার (২৩)। তিনি সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালু ফকিরপাড়ার সৌদিপ্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের নুজাইফা ইসলাম রাইসা নামে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

কালু ফকিরপাড়ার মৃত অছিউর রহমানের ছেলে শাহ আমিন (প্রবাসী শাহ আলমের ছোট ভাই) জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের উত্তর শরীফপাড়ার নুরুল আজিমের মেয়ে রোকসানার সঙ্গে শাহ আলমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে বাড়ির সবার অজান্তে শিশুসন্তানসহ রোকসানা নিরুদ্দেশ হন। ফজরের আজানের পর সবাই ঘুম থেকে উঠলেও তার সাড়াশব্দ না পেয়ে দেখতে গিয়ে রুমের দরজা খোলা পাওয়া যায়।

রুমে ঢুকে আলমিরা খোলা দেখে তল্লাশি করে টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাপড়-চোপড় এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবেশী মোক্তার আহমদের ছেলে মো. রিদুয়ানের (২০) সঙ্গে রোকসানা পালিয়ে গেছেন। ঘটনার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে প্রবাসী স্বামী, জিডিকারী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে মোবাইলে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দেন রোকসানা।

প্রবাসী শাহ আলম মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেয়েটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই রোকসানার পরকীয়ার বিষয়টি শুনছিলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলে অস্বীকার করতো; আমি ছুটিতে দেশে আসতে চাইলেই বেঁকে বসতো। বলতো ঘর বিল্ডিং করলেই আমি দেশে আসতে পারবো। প্রয়োজনে তাকে সৌদি আরব নিয়ে যেতে বলতো। তার কথামতো প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে ঘর তোলার জন্য মাসখানেক আগে ছয় লাখ টাকা পাঠাই। বিয়েতে দেওয়া আট ভরি স্বর্ণ এবং গত মাসে ছুটিতে দেশে যাওয়া তার (স্ত্রীর) মামাকে দিয়ে মেয়ের জন্য তিন ভরি স্বর্ণ পাঠানো হয়।’

‘স্ত্রীর কথায় জরুরি পাসপোর্ট করে ভিসাও করা হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। সামনের যে কোনো দিন তাদের চলে আসা যাবে বলে জানিয়েছিলাম। সেটা বলার পরই আমার পাঠানো নগদ ছয় লাখ টাকা, ১১ ভরি স্বর্ণ, মোবাইল, দামি পণ্যসামগ্রী নিয়ে সে পালিয়েছে।’

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]