দুই হাতের ভরে রিপন মিয়ার ৩০ বছরের সংসার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২১

বয়স যখন সাত বছর, তখন টাইফয়েড জ্বর হয় রিপন মিয়ার। এরপর থেকে অচল হয়ে যায় দুই পা। সংসারে অভাব থাকায় চিকিৎসা করাতে পারেননি বাবা। ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে হারান মাকে। এরপর থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। দুই হাতে ভর করে বিভিন্ন বাজারে হাত পেতে, ভিক্ষা করে সংসার চলে তার।

প্রতিবন্ধী রিপন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। পৈতৃক পাঁচ শতাংশ জমিতে ছয় ভাইয়ের বসবাস।

১৭ বছর আগে বিয়ে করেন রিপন। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস।

begar1

রিপন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সারাদিন আমি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে ভিক্ষা করি। এতে যে টাকা পাই, তা দিয়েই খেয়ে না খেয়ে সংসার চলে। এর মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া খরচও জোগাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সারাদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাই তার প্রায় অর্ধেকেই চলে যায় এক বাজার থেকে অন্য বাজার যেতে রিকশা ভাড়ায়। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে সংসার চালানো অনেক কষ্ট হয়ে যায়।

begar3

‘যদি আমার নিজের একটি গাড়ি থাকতো তাহলে রিকশা ভাড়ার টাকাটা আমার থেকে যেতো। এ টাকাটা আমার সংসারের জন্য অনেক কিছু। একটি রিকশার দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এত টাকা দিয়ে রিকশা কেনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি আমার দিকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো একটি রিকশা কেনা সম্ভব’—যোগ করেন প্রতিবন্ধী রিপন মিয়া।

রিপন মিয়ার স্ত্রী শিল্পী আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচজনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তিনবেলা ঠিকমতো লবণ ভাতই জোটে না। যে ঘরে বসবাস করি বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। সরকার কত মানুষকে ঘর দিচ্ছে। আমাদের যদি একটা ঘর দিতো তাহলে ঘরে অন্ততপক্ষে শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।

begar1

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. হাফিজা জেসমিন বলেন, রিপন মিয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]