আরএমপি-সিটি করপোরেশনের সেবায় সুস্থ হলেন মিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১১:০২ এএম, ১২ অক্টোবর ২০২১

কাজী মিরা (৬০) ও কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস (৫০) দুই বোন। বসবাস করেন রাজশাহী মহানগরীর হাদিরমোড় এলাকায়। তাদের বাড়িতে পুরুষ অভিভাবক বলতে কেউ নেই। জুন মাসে হঠাৎ বড় বোনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সে সময় চারদিকে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। অতিরিক্ত দাম দিয়েও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না অক্সিজেন সিলিন্ডার। এতে ভেঙে পড়েন ছোট বোন জান্নাতুল।

এমন সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিনামূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবায় বাঁচার আশা জাগিয়ে তোলে মিরাকে। হটলাইনে কল করে বোনের জন্য বিনামূল্যে একের পর এক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন জান্নাতুল। প্রতি ২০ থেকে ২৫ মিনিটে একটি করে সিলিন্ডার প্রয়োজন হতো মিরার। এভাবে দীর্ঘ চার মাস সংগ্রাম করে বড় বোনকে মৃত্যুর কোল থেকে ফিরিয়ে আনেন ছোট বোন।

বড় বোন এখন অনেকটা সুস্থ। এখন আর অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হচ্ছে না। যাদের সহযোগিতায় ও পদক্ষেপের কারণে বড় বোনকে বাঁচাতে পেরেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাননি কাজী জান্নাতুল।

সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগর ভবনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে ছুটে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া আরএমপির কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক ও সহযোগিতা প্রদানকারী চিকিৎসকদের কাছে গিয়েও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন রাসিক মেয়র লিটনকে।

ঘটনার বিবরণে কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ২১ জুন দিনগত রাত ১২টায় আমার বোনের হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান বেড খালি নেই। সেদিন বোনকে বাড়ি নিয়ে আসি। পরে আরএমপির হটলাইনে কল করে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। পরদিন ২২ জুন বড় বোনকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করি। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুনরায় ১১ জুলাই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু বাড়িতে ফিরেই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয়।

তিনি আরও বলেন, ১১ থেকে ১৬ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও আরএমপি থেকে প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সহযোগিতার কারণে বড় বোনের (মিরা) প্রাণরক্ষা হয়। তাদের হটলাইন নম্বরে যখন কল করেছি তখনই তারা বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছে। কখনো বিরক্ত হয়নি, কোনো দিন খারাপ আচরণ করেনি। যতবার চেয়েছি, ততবারই আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। এমনকি কাউকে একটা পয়সাও দেওয়া লাগেনি।

কাজী জান্নাতুল বলেন, জন্ম ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তবে মেয়র ও আরএমপি কমিশনারের এ অক্সিজেন সেবা না পেলে আমার বড় বোনকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। তারা বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করে এভাবে যে কতো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন, তারা হয়তো তা জানেনই না। আমি যদি আজ না জানাতাম, আমার এ ঘটনাটিও তারা জানতেন না। যেসব পরিবার উপকৃত হয়েছে, তারাই জানেন, কতটা উপকার তারা পেয়েছেন। কারণ সে সময় দ্বিগুণ/তিনগুণ দামেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না অক্সিজেন সিলিন্ডার।

ফয়সাল আহমেদ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]