রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১

কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না বাড়তে থাকা বাজার দরের। সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুরে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দর কিছুটা কমলেও তা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে। সেইসঙ্গে শীতের আগাম সবজি ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রংপুরের সিটি বাজার, সিও বাজার ও লালবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে এখন দাম কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়।

মাস খানেক আগেও ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগিরও দাম বাড়তি। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম নিচ্ছেন ৩০০-৩২০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি দরে। উৎপাদকরা বলছেন, লকডাউনের পর কয়েক দফায় বেড়েছে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম।

jagonews24

আমতলা বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা এনামুল হক জানান, দুই সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানি মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। এখন ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার মতো নিম্নœ আয়ের মানুষদের। এভাবে চলতে থাকলে মাসে একদিনও মাংস খাওয়ার স্বাদ পূরণ হবে না বলে জানান তিনি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাফিজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে এভাবে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় তার সন্তানদের ওপর খুব প্রভাব পড়ছে। তার সন্তান মাছের তুলনায় মুরগি খেতে বেশি পছন্দ করে। সম্প্রতি মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। তার মতো স্বল্প বেতনে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির পক্ষে মুরগি বাদে অন্য যেকোনো মাংস প্রতিনিয়ত কেনা সম্ভব নয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

jagonews24

নগরীর লালবাগ এলাকার খামারি কবির হোসেন জানান, পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে মুরগিকে সাধারণত সয়াবিন মিল খেতে দেয়া হয়। সয়াবিন মিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোল্ট্রি খামারিরা সংকটের মুখে পড়েছেন। এটি মুরগির দাম বাড়ার পেছনে একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।

সিও বাজার এলাকার খামারি আসাদুর রহমান জানান, করোনা ও বর্ষা শেষে এখন সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেড়ে গেছে। এ কারণে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

এদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়ে ৫০-৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট ৬২-৬৫ টাকা, নাজিরশাইলের দাম ৬৫-৭০ টাকা।

jagonews24

আগে থেকে বেড়ে যাওয়া চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডালের দাম কমেনি এখনো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৫ সেপ্টেম্বর লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে খোলা সয়াবিন তেলের দর খুচরা পর্যায়ে ১২৯ টাকা, পামওয়েল ১১৬ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৫৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর খোলা চিনির দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৭৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই দামে কোথাও খুচরা বিক্রেতারা সয়াবিন তেল ও চিনি বিক্রি করা হচ্ছে না।

খোলা সোয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৪০-১৪৫ টাকা, বোতলজাত প্রতি লিটার ১৪৮-১৫০ টাকা, খোলা চিনি ৮০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮৫-৮৭ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আগের মতই আমদানি করা মসুর ডাল ৯০ টাকা এবং দেশি মসুর ডাল ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

বাজারে শীতের সবজি আসা শুরু হলেও দাম অনেক চড়া। বিক্রেতারা ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপির দাম হাঁকছেন ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া শিম ৯০-১০০ টাকা, টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫৫-৬০ টাকা, করলা ৪৫-৫০ টাকা, গাজর ১৩০-১৪০ টাকা, মূলা ৪০-৪৫ টাকা, উস্তে ৭০-৮০ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০-৪৫ টাকা, গোল বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, চিকন বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, ডিমের হালি ৩৫-৩৬ টাকা এবং রসুন ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কার্ডিনাল আলু খুচরা বাজারে ১৫-১৬ টাকা এবং শিল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া রুই মাছের কেজি মানভেদে ২৫০-২৮০ টাকা, কাতল ৩০০-৩২০ টাকা, কই মাছ ১৫০-১৭০ টাকা, চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া দোকানে ও ভ্যানে প্রতি আঁটি শাক প্রকারভেদে ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জিতু কবীর/ এফআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]