আয়া নিয়োগে ‘সাজানো’ পরীক্ষা, প্রার্থীর খাতা গায়েব!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে আয়া নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে সাজানো পরীক্ষার আয়োজন ও এক প্রার্থীর পরীক্ষার খাতা গায়েবের ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে রোববার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন জান্নাত নামে ভুক্তভোগী নারী।

জান্নাত উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ তালুকদারের মেয়ে। পাঁচ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ আগস্ট একটি পত্রিকায় আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ক পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি জেনে জান্নাত আয়া পদে আবেদন করেন। চাকরি পাইয়ে দিতে প্রধান শিক্ষক লোক মাধ্যমে জান্নাতের কাছে লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনজন কলেজছাত্রীসহ আয়া পদে পাঁচজনকে দিয়ে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে সাজানো পরীক্ষার আয়োজন করেন।

একইদিন পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে জান্নাতের নিয়োগ পরীক্ষার খাতা গায়েব করে প্রধান শিক্ষক পছন্দের প্রার্থীকে আয়া পদে চাকরি দেন। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ক পদেও টাকা লেনদেন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিধবা জান্নাত বেগম অভিযোগ করে জানানা, আয়া পদে নিয়োগে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন। এতে কলেজছাত্রীসহ পাঁচজন প্রার্থীকে পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। তিনি পরীক্ষায় অংশ নিলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার খাতা গায়েব করা হয়।

তিনি আরও জানান, পছন্দের প্রার্থী তানজিনা আক্তারের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। তানজিনা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক চৌধুরীর ভাগনি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক কলেজছাত্রী মারজাহান বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে স্কুলে ডেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নেন। তখন তিনি বলেছেন জরুরি প্রয়োজনে এ স্বাক্ষর লাগবে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি (শিক্ষক) আমাদেরকে লক্ষ্মীপুর নিয়ে আয়া পদে পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে বলেন। আমরা ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী হওয়ায় তার কথায় আমরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।

আরেক কলেজছাত্রীর বাবা আবু তাহের বলেন, না জানিয়ে আমার এইচএসসি পাস মেয়েকে দিয়ে আয়াপদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। পকেট ভারী করার জন্য শিক্ষক এ খামখেয়ালিপনা করেছেন। এটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন শিক্ষক জানান, টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নুরুল আলম তিনটি পদে বিদ্যালয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী নারী পরীক্ষায় পাস করেনি। কলেজছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য শিক্ষা বিভাগকে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।

কাজল কায়েস/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]