জমি খারিজে অনিয়ম, এসিল্যান্ডকে সতর্ক করলেন আদালত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

জমি-সংক্রান্ত একটি মামলায় খারিজে অনিয়ম ধরা পড়ায় রাজশাহীর বাগমারা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মাহমুদুল হাসানকে সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বিচারকের নজরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ের গাফিলতি ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) এক আদেশে এসিল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাগমারা থানার নুদাকান্দর মৌজার দুটি দাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় আবুল হোসেন ও মকবুল হোসেন মধ্যে। পরে উভয়ই মামলা করেন বাগমারা আদালতে। গত ৬ অক্টোবর বাগমারা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মারুফ আল্লাম মামলার একটি নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বাগমারা থানার নুদাকান্দর মৌজার যে দুটি দাগ নিয়ে পক্ষদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, ওই দুটি দাগে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রকৃত জমির চেয়ে বেশি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। দেখা যায়, দাগের প্রকৃত জমির চেয়ে ৪৬২ দাগে ১.৫ শতক আর ৪৬৩ দাগে ২.৫ শতক জমি অতিরিক্ত খারিজ হয়েছে। মোকদ্দমা উদ্ভবের পেছনে অতিরিক্ত এ খারিজের ভূমিকা আছে বলে আদালত তা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেন।

আদালত এসিল্যান্ডের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেন। একইসঙ্গে খারিজ-সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারগুলো যাচাইয়ের জন্য আদালতে তলব করা হয়। পরে এসিল্যান্ড মাহমুদুল হাসান লিখিত ব্যাখ্যা দেন ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারগুলো আদালতে পাঠান।

রেজিস্টারগুলো যাচাইয়ে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর হোসেন দেখতে পান, ৪৬৩ দাগের সম্পূর্ণ চার শতক জমি প্রথমে বিবাদীর নামে খারিজ করা হলেও খতিয়ান থেকে তখন তা কর্তন করা হয়নি। ফলে একই সম্পত্তি থেকে পরে আবারও ২.৫ শতক সম্পত্তি বাদীকে খারিজ করে দেওয়া হয়। আবার ৪৬২ দাগের পাঁচ শতকের মধ্যে প্রথমে বিবাদীকে দুই শতক আর পরে অবশিষ্ট তিন শতক বাদীকে খারিজ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এসিল্যান্ড কার্যালয়ের রেজিস্টার অনুসারে বাদীর খারিজ তিন শতক হলেও তহশিল অফিসের রেজিস্টারে দেখা যায়, কাটাকাটি করে সেটিকে ৪.৫ শতক করা হয়েছে।

বাগমারায় জমি নিয়ে অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তার আদেশে বলেন, খারিজ-খাজনার কাগজকে দখলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আর স্বত্বের সমর্থক প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। সুতরাং খারিজ-খাজনার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও তদারকি প্রয়োজন। নয়তো আদালতের কাঁধে অপ্রয়োজনীয় মামলা মোকদ্দমার চাপ বাড়তেই থাকবে। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের কপি ডেপুটি কমিশনার রাজশাহী ও এসিল্যান্ড বাগমারা বরাবর পাঠানের আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে বাদী আবুল হোসেনের আইনজীবী ও আদালতের এজিপি মো. আলাউদ্দিন বলেন, যেহেতু এটি বাদী-বিবাদীর কোনো বিষয় নয়, সেহেতু আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। আদালত মামলাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করে যেখানে সমস্যা মনে হয়েছে সেখানে আদেশ দিয়েছেন। তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। বলতে গেলে আমার মক্কেলসহ এসিল্যান্ড, এসিল্যান্ড কার্যালয় সব চলে আসবে। সুতরাং আমি কিছুই বলতে চাই না।

বাগমারা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মমিন প্রামাণিক আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মূলত রেজিস্টার পরিদর্শনের পর বিচারকের কাছে এসব অনিয়মের ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে বাগমারা এসিল্যান্ড মাহমুদুল হাসান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আদালতের এমন কোনো নির্দেশনা যদি আমার প্রতি থেকে থাকে তবে অবশ্যই সেটি প্রতিপালন করা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল বলেন, এখন পর্যন্ত আদালতের এমন কোনো নির্দেশনা আমি হাতে পাইনি। আদালত থেকে পাঠানো আদেশের ধরন না দেখে এখন কোনো মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফয়সাল আহমেদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]