ইউএনওর আর্থিক সহায়তায় স্বপ্নপূরণ লিমার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২১

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান লিমা খাতুন। ১৩ বছর আগে বাবা মারা যান। লিমার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন দর্জির কাজ করে সংসার চালাতেন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন মা মেরিনা বেওয়া। তবে অভাব-অনটন পিছু ছাড়ে না তাদের। এরই মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান লিমা খাতুন। নার্সিং কলেজে সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না। লিমার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা।

ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন লিমা, করবেন মানুষের সেবা। অভাব-অনটনের মধ্যেও ২০১৮ সালে আলাইপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৪.৭২ পান। ২০২০ সালে রাওথা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি পরীক্ষায় ১৫০ নম্বরের মধ্যে লিমা পান ১১৪.৮৬। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি) ভর্তির সুযোগ হয় লিমার।

তবে মেধাতালিকায় সুযোগ পেয়েও পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে লিমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দু-একজন শিক্ষক পরামর্শ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাওয়ার। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসকের কাছে যান লিমা ও তার মা। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ভর্তির জন্য নগদ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন ইউএনও পাপিয়া সুলতানা।

এ বিষয়ে পাপিয়া সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আগে লিমা আমার কাছে এসেছিলেন। তখন তাকে ভর্তি পরীক্ষার খরচ বাবদ নিজ থেকে ৬ হাজার টাকা সহযোগিতা করেছিলাম। তবে এখন তাকে বাঘা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দিলাম।

তিনি আরও বলেন, আসলে যারা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কিছু করতে চান এবং নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে কিছু করতে চান তাদের নিজ থেকেই সহযোগিতা করতে চাই। সব কিছুই আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে সমাজের বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। তারপরও আগামীতে এমন মেধাবীদের এগিয়ে নিতে আমার সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে।

এ বিষয়ে লিমা খাতুন জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর মা খুব কষ্টে আমাদের মানুষ করেছেন। তাই নিজের ও পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য পড়াশোনা করে চিকিৎসক হতে চেয়েছি। চিকিৎসক হতে না পারলেও যেন নার্স হয়ে মানুষের সেবা করতে পারি এবং পরিবারের হাল ধরতে পারি সে লক্ষ্যে নার্সিং কলেজে পরীক্ষা দেই। স্কুল-কলেজে আমার শিক্ষকরা অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। সবশেষে আমার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করেন ইউএনও ম্যাডাম। এ জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

লিমার মা মেরিনা বেওয়া বলেন, নিজের ইচ্ছার জোরেই সে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। খুব কষ্টে আমার বড় দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহের কারণেই যতটুকু পেরেছি দর্জি কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি তার পড়াশোনা খরচ চালানোর চেষ্টা করেছি। ইউএনও ম্যাডাম সহায়তা না করলে বিপদেই পড়তে হতো। তাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই।

ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, বাবার মৃত্যুতে তাদের সংসার অভাব-অনটনেই কেটেছে। বাবার মৃত্যুর পর তার মা দর্জির কাজ করে দুই মেয়ের লেখাপড়া করিয়েছেন। ছোট মেয়ের ভর্তির বিষয়টি শোনার পরপরই তাকে নিয়ে যাই ইউএনওর কাছে। ইউএনওর সহযোগিতায় সে এগিয়ে যাক এটাই কাম্য।

ফয়সাল আহমেদ/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]