কয়রায় একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: মামলা দায়ের, পুলিশ হেফাজতে ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৬:০০ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামে পুকুর থেকে বাবা-মা ও সপ্তম শ্রেণির কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই পরিবারের এ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের পর এই চারজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা হলেন- সুলতানা (২৫), নাঈম (২২), জিয়া (২৭) ও কিবরাল (৩০)। এর মধ্যে সুলতানা আগেও নিহত হাবিবুর রহমানের ওপর একবার ধারালো অস্থ নিয়ে হামলা চালান বলে এলাকাবাসী জানান।

তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহত হাবিবুর রহমানের মা কোহিনুর খানম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। প্রাথমিকভাবে দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- হাবিবুর রহমান (৩৬), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (২৬) ও একমাত্র মেয়ে হাবিবুন্নাহার টুনি (১৩)।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাবা-মা ও মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর পুকুরে মরদেহ ফেলে দিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেছে ঘাতকরা। নিহত হাবিবুর রহমান ও তার শিশুকন্যা টুনির শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর বিউটি খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর পেশায় দিনমজুর, তার স্ত্রী গৃহিণী ও একমাত্র মেয়ে হাবিবুন্নাহার টুনি ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। তিনজনের মাথা ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী বলেন, যে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে তারা খুবই সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে সে সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে নিহত হাবিবুর রহমানের মা কোহিনুর খানম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে। সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আলমগীর হান্নান/ইএ

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]