ধর্ষণ মামলার পর বিয়ে, এবার শিশুসন্তানসহ তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

বরিশালের গৌরনদীতে এক গৃহবধূকে (২১) শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দুধের সন্তানসহ শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিচারের দাবিতে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই গৃহবধূ। তবে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গৃহবধূ জানান, ২০২০ সালের জুন মাসে উপজেলার বার্থী গ্রামের মৃত খসরু মাঝির ছেলে বাপ্পি মাঝির (২২) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে এর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বাপ্পি। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাপ্পি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তার বিরুদ্ধে গৌরনদী থানায় ধর্ষণ মামলা করেন তিনি। মামলা থেকে রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে বাপ্পি তাকে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে আসছিলেন। কাজে ভুল ধরে বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করতেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গৃহবধূ বলেন, আমার বাবা-মা গরিব। তাদের কাছে গিয়ে থাকবো সে উপায় নেই। তাই দুধের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখবুঝে সবকিছু সহ্য করতাম। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাপ্পি আরেকটি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে তারা আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। মাসখানেক আগে একদিন রাতে শাশুড়ি ও ভাসুরের স্ত্রী আমাকে মারধর করেন। এরপর মাথার চুল কেটে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। দুধের সন্তান নিয়ে মামার বাড়ি আশ্রয় নেই।

গৃহবধূ বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিচারের দাবিতে এক মাস ধরে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। তারা শুধু বিচারের আশ্বাস দিচ্ছেন, কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দুধের সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহবধূর শাশুড়ি বলেন, ছেলের স্ত্রীকে মারধর বা চুল কাটার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার সংসার করার মন নেই। তাই সে চলে গেছে। শুনেছি সে মামলা করতে পারে। মামলার ভয়ে আমার ছেলে বাপ্পি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বাপ্পির বড় ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, দেবরের স্ত্রীকে (গৃহবধূ) ছোট বোনের মতো স্নেহ করতাম। সে এখন বাড়ি থেকে চলে গিয়ে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে।

এ বিষয়ে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, সালিশে মীমাংসা করতে দুই পক্ষের প্রয়োজন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বাপ্পি মাঝি এলাকায় নেই। সে এলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা জানা নেই। মৌখিক বা লিখিত অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইফ আমীন/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]