খুলনা জেনারেল হাসপাতালে এবার এফডিআরের ৭০ লাখ টাকা উধাও!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের এফডিআরের ৭০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলনার অগ্রণী ব্যাংক স্যার ইকবাল রোড শাখায় টাকাগুলো এফডিআর করা ছিল। পরে ওই টাকার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে করোনা পরীক্ষার দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ল্যাবের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাস কর্মস্থলে ফিরে হাজিরা খাতায় সই করতে চাইলে তাকে বিরত রাখেন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা। উচ্চ আদালত থেকে তিন সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে তিনি খুলনা এসেছেন। তিনি নিম্ন আদালত থেকে স্থায়ী জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের এফডিআরের ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখা ছিল। কিন্তু সেই টাকা বর্তমানে ব্যাংকে পাওয়া যাইনি। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি) ডা. কাজী আবু রাশেদকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, করোনা পরীক্ষার দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসপাতাল ল্যাবের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২১ নভেম্বর স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক দপ্তর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে না সেজন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। তাকে ১০ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। শোকজ পত্রটি অভিযুক্ত প্রকাশের বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি) ডা. কাজী আবু রাশেদ বলেন, এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলমান। আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্ত শেষ না হলে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক ও আরএমও মাহবুবুর রহমানের সময়ে ব্লাড ব্যাংকের এফডিআরের ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। এতো বছর বিষয়টি কারো নজরে আসেনি। এফডিআরের টাকাগুলো অগ্রণী ব্যাংকে রাখা ছিল।

ব্যাংক থেকে এই টাকা সিভিল সার্জন এবং ব্লাড ট্রান্সমিউশন কর্মকর্তার (বিটুও) যৌথ সই ছাড়া কেউ তুলতে পারেন না। করোনা পরীক্ষার দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তদন্ত করা শুরু করলে তখন ব্লাড ব্যাংকের ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

হাসপাতালের একাধিক সূত্রমতে, ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) মামলা হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে শীর্ষ থেকে নিম্ন পর্যায়ের অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

করোনা পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ল্যাবের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাস বলেন, তার বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলায় তিনি হাইকোর্ট আগাম তিন সপ্তাহের জন্য জামিন পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নোটিশের জবাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি। বড় কর্তারা তাকে বলির পাঠা বানানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন প্রকাশ কুমার দাস।

আলমগীর হান্নান/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]