ক্লাসের দাবি করায় গালমন্দ, ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৭:৪৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

রাজশাহীতে জনপ্রিয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামি ব্যাংক নার্সিং কলেজ। করোনায় বাকি সব প্রতিষ্ঠানের মতো এটিরও পাঠদান স্থগিত ছিল। তবে কলেজ খোলার পরপরই শুরু হয় পরীক্ষা। এরপর থেকে এক মাস অতিক্রম হলেও শুরু হচ্ছিল না ক্লাস। তাই কলেজ ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারিক ক্লাসের দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের গালমন্দ ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভিসি এবং ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের (আইবিএফ) চেয়ারম্যানের কাছে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগে জড়িত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২ নভেম্বর বিএসসি নার্সিং প্রথম বর্ষের ক্লাস ক্যাপ্টেন জুনায়েদ ক্লাসের সবার সম্মতিক্রমে পাঠদান চালু ও ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারিক ক্লাসের অনুমতি চাইতে অফিসে যান। এ সময় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর সিদ্দিক।

এক পর্যায়ে তার বাবা-মাকে তুলে গালিগালাজ করেন তানভীর। জুনায়েদের সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা এ খবর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জানালে তারা ক্লাসরুম থেকে অফিসে ছুটে গেলে তিনি তাদেরও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেন। তবে ক্লাস নিয়মিতকরণের আশায় তারা কোথাও অভিযোগ দেননি। কিন্তু দীর্ঘ একমাস অপেক্ষার পর তারা আবারও ২ ডিসেম্বর সকালে থিউরি ও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের চালুর দাবিতে অফিসে যান। পুনরায় তাদের ফিরিয়ে দেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কলেজটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর সিদ্দিক যোগদানের পর শুরু করেন নানা অনিয়ম। তার নির্দেশনায় কলেজ হোস্টেলে সরবরাহকৃত অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে গতবছর প্রায় ৩০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু সব কর্তৃত্ব প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীরের হওয়ায় কেউ ওই ঘটনায় মুখ খোলার সাহস করেননি। পরে ছাত্রীদের অনেকে বাধ্য হয়ে হোস্টেল ত্যাগ করেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় কয়েক ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা। যার রেজাল্ট এক বছরেও প্রকাশ করা হয়নি। ওই পরীক্ষার কোনো ডকুমেন্ট নেই বলে শিক্ষার্থীদের সাফ জানিয়ে দেন তাদের শ্রেণি শিক্ষক। অথচ প্রায় এক লাখ টাকা পরীক্ষার ফি বাবদ পরিশোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন পরিচালিত রাজশাহী আইবিএনসিতে বিএসসি বেসিক ও পোস্ট বেসিক এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং চালু আছে। প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ থাকলেও ননটেকনিক্যাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর সিদ্দিক সবকিছু দেখভাল করেন। এ কারণে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তার সঙ্গেই যোগাযোগ করতে বলা হয়।

শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহম্মেদ (ক্লাস ক্যাপ্টেন) বলেন, ক্লাস না হওয়ায় আমরা সবাই দরখাস্ত লিখে অধ্যক্ষের কাছে পাঠাই। তিনি তখন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীরের কাছে যেতে বলেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি পত্রটি ছুড়ে ফেলে দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন ক্লাস হবে না। না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি আমার বাসায় ফোন করে তিনি জানান, আমি নাকি সব বিষয়ে ফেল করেছি এবং পড়াশোনা না করে উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করি। অথচ আমার রেজাল্ট সব বিষয়েই ভালো। আর আমি খুব মার্জিত স্বভাবের ছেলে যা আমার বাবা-মা খুব ভালোভাবেই জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাজশাহী আইবিএনসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়ে এসব অভিযোগ দিচ্ছে। আমি যদি দোষী হয়ে থাকি তবে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যা ব্যবস্থা নিবেন আমি তাই মেনে নেবো। এ বিষয়ে বেশি কিছু বলার নেই।

এদিকে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা জানা নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোছা. হোসনে আরা খাতুন। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীরা কার বিরুদ্ধে কোথায় অভিযোগ করেছে জানা নেই। তারা অন্তত আমাকে জানাতে পারতো। তবে ছোট মানুষ, তাই হয়তো এসব না বুঝেই করছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) ডা. মোস্তাক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমি পাইনি। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো অভিযোগ যদি আসে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ফয়সাল আহমেদ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]