মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে বাসাবাড়ি ভাঙার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো নোটিশ ছাড়াই অন্যায়ভাবে এক প্রবাসীর বাসাবাড়ি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়র আরিফের এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফৌজধারী মামলা করারও কথা জানান ওই প্রবাসী।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সিলেট নগরের জেলরোডস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুনু মিয়া। তিনি দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সিলেট নগরেও তার বাসা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুনু মিয়া বলেন, সিলেট নগরের মিউনিসিপাল মৌজাধীন সোবহানীঘাট এলাকায় সাত শতক ভূমি নিজের ছেলে মো. সজলুল আমিন, মো. রুহুল আমিন ও মো. জহিরুল আমিনের নামে এবং তার খালাতো ভাই সিলেটের গোলাপগঞ্জের তোফায়েল আহমদ ও ফয়জুল আহমদ আরও সাত শতক ভূমি পৃথক দলিলে কিনেন। এ ভূমির মূল মালিক ছিলেন নরেশ চন্দ্র দত্ত সেনাপতি। তিনি গত ১৯২৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রসময় চৌধুরী ও রজনী ভূষণ চৌধুরীর কাছে এ ভূমি বন্ধক রাখেন। সময়ের পরিক্রমায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে রজনী কান্তি চৌধুরী ওই ভূমির একক মালিক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে ভোগদখলে থাকা তার একমাত্র ছেলে রণধীর চৌধুরীকে উত্তরাধিকারী রেখে মারা যান। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ভূমি বরন্ডি হিসেবে ভুলভাবে সিলেট মিউনিসিপালিটির নামে রেকর্ড হয়ে যায়।

প্রবাসী জুনু মিয়া আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে মামলা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৯৬৯ সালের ২৭ জুন আদালত পৌরসভার বিরুদ্ধে রায় দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর রনধীর চৌধুরী ২৫ পয়েন্ট ৫০ শতক ভূমির মধ্যে গুল মোহাম্মদের নামের একজনের কাছে ১২ শতক ভূমি বিক্রি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুনু মিয়া বলেন, গুল মোহাম্মদ ১৯৬৮ সালের ৫ মে আলতাব উদ্দিনের কাছে তার অংশ ১২ শতক ভূমি বিক্রি করেন। মোহাম্মদ আলতাব উদ্দিন আহমদ ১৯৮২ সালের ১ এপ্রিল ও ওই বছরের ২৭ এপ্রিল ৬ শতক করে মোট ১২ শতক ভূমি আরকান আলী নামের একজনের কাছে বিক্রি করেন। অপরদিকে আব্দুর রহিম ও ওমর উদ্দিন আহমদ নামের আরও দুজন ১২ শতক ভূমি আরকান আলীর কাচে বিক্রি করেন। এরপর থেকে আরাকান আলী এই ২৪ শতক ভূমির একক মালিক ও দখলদার হন।

জুনু মিয়া বলেন, আরকান আলী ১৯৯৬ সালের ১৮ জুন সাত শতক ভূমি আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আমার ছেলে সজলুল আমিনসহ আরও কয়েকজন দখলদার মালিক হিসেবে নামজারি ও পৃথক খতিয়ানভুক্ত এবং খাজনা দিয়ে গত জরিপে আমাদের নামে রেকর্ড করায়। এরপর থেকে তারা প্রকৃত মালিক হিসেবে ওই ভূমি ভোগদখল করে আসছে। আমরা খাজনা পরিশোধ করে নামজারিক্রমে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার মাধ্যমে ম্যাপ অনুমোদনের পর গত ২০০১ সালে ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ করি। এদিকে, আরকান আলী ২০০১ সালে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা আরও সাত শতক ভূমি আমার খালাতো ভাই তোফায়েল আহমদসহ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন। আমার ছেলে ও তোফায়েলদের দখলে থাকা মোট ১৪ শতক ভূমির ওপর একটি চক্রের কুনজর পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় তোফায়েল ও আমরা ছেলেদের নামজারিকৃত ভূমি কোনো প্রকার নোটিশ বা আইনানুগভাবে অবগত না করে নামজারি বাতিল করেন। আমাদের ভূমি অন্যায়ভাবে ও বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে ওই ভূমিখেকো চক্র সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ভ্রান্তধারণা দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রেকর্ড বাতিল হওয়া সত্ত্বেও সেই বাতিলকৃত রেকর্ডের অজুহাতে বেআইনিভাবে নানা কার্যক্রম চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আমাদের নামের রেকর্ড বাতিল করে সিটি করপোরেশনের নামে রেকর্ড বহালের জন্য সিসিকের পক্ষে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ২০১৭ সালে আবেদন করলে তদন্তের জন্য চার্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের কাছে ন্যস্ত হয়। মাহবুবুল আলম ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশনের আবেদনটি খারিজ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুনু মিয়া বলেন, প্রায় ৫৩ বছর আগে আদালতের রায়ে ওই ভূমির মালিকানা নিয়ে বিতর্কের অবসান হলেও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজ ক্ষমতাবলে আমার ও আমার খালাতো ভাইদের বাসাবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেন। এ বিষয়ে আগে কোনো নোটিশ দেননি বা আদালত থেকে উচ্ছেদের কোনো আদেশও দেখাননি। মেয়র নিজে বাদী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমি আমার জায়গা উদ্ধারের জন্য এবং অন্যায়ভাবে আমার বাসাবাড়ি ভেঙে ফেলায় মেয়র আরিফের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন জুনু মিয়া।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

ছামির মাহমুদ/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]