‘কান্ডারী’র শ্রমে ফের দাঁড়ালো দেলুটি গ্রামের ‘বাতিঘর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

গ্রামটি নদীবেষ্টিত। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলে এখানকার কার্যক্রম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয় গ্রামের ১০ হাজার মানুষকে। নদীতে মাছ শিকার ও কৃষিকাজই তাদের প্রধান জীবিকা।

বলছিলাম খুলনার পাইকগাছার দেলুটি গ্রামের কথা। এ গ্রামবাসীর সন্তানদের জন্য আছে একটি মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এমনিতেই অনেকটা জনাকীর্ণ ছিল স্কুলের ভনটির অবস্থা। আর সুপার সাইক্লোন আম্ফানে একেবারে ভঙ্গুর হয়ে যায় পুরো ভবন। হারাতে বসে আলো ছড়ানোর একমাত্র বাতিঘরটি।

কিন্তু সে বাতি নিভতে দেয়নি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কান্ডারীর’ কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ। তাদের পরিশ্রমে আজ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন পেয়েছে গ্রামবাসী। আর এতেই খুশি তারা।

jagonews24

মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই একমাত্র কাজ কান্ডারীর। সে জায়গা থেকে বাদ যায়নি দেলুটিবাসীও। দেশ ও বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়টির কাজ শুরু করে সংগঠনটি। যার প্রায় শেষের পথে। সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুলটি ফিরে পেয়েছে তার চিরাচরিত রূপ। স্কুলের আঙিনায় হচ্ছে শিশু কিশোরদের কলরব। আর এতেই তাদের অভিভাবকরা।

দেলুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভ্রত কুমার বলেন, আম্ফানের পর আমাদের উচ্চ মাধ্যমিকের ভবনটি ভঙ্গুর হয়ে যায়। কান্ডারী ভবনটি করে দিয়ে আমাদের আশাকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষকরা অনেকটা স্বেচ্ছাসেবকের মতো এখানে কাজ করেন। আমরা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে খণ্ডকালীন চাকরি করি। যখন আমাদের বাচ্চারা আমাকে ‘স্যার’ বলে ডাকে, ভালো কলেজে ভর্তি হয় এবং ভালো চাকরি করে, তখনই আমাদের সফলতা।

স্কুলে যেতে পেরে দেলুটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুস্মিতা সরকার বলে, স্কুল ফিরে পেয়ে আমরা খুব খুশি। আমি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাই। আমি যা জানি তা শেখাতে চাই।

jagonews24

কান্ডারীর প্রতিষ্ঠাতা আফসারা তাসনীম আলভী বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুভূতি। প্রচেষ্টা অমূল্য হয়ে যায় যদি এটি শিশুদের সুবিধার জন্য হয়। বৈষম্য এবং ধ্বংসের এ পৃথিবীতে আমাদের সবারই উচিত যথাসাধ্য চেষ্টা করা যাতে শিশুদের তাদের স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

দেলুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুমার মণ্ডল বলেন, আম্ফানের পর স্কুলটির অবকাঠামো একবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কান্ডারী নামক সংগঠনটি স্কুলটির নতুন ভবন করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। আমরা এলাকাবাসী এতে খুশি। স্কুলটি এমপিওভুক্ত করতে সংসদ সদস্যসহ আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এটি এমপিওভুক্ত হবে।

২০১৯ সালে কান্ডারী প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল ছাড়াও তারা বিভিন্ন সেবামূলক কাজে জড়িত। করোনাকালে মানুষদের অর্থ ও খাবার দিয়ে সহায়তা করেছে। এছাড়া শীতে রংপুরে কম্বল বিতরণ করে সংস্থাটি।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]