হাসপাতালে কিশোরীর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৭:৪৩ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মোছা. মেহেরুন (১৭) নামে এক কিশোরীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী তৌফিকুল ইসলাম হিমেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়া তৌফিকের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে মেহেরুনের পরিবারসহ শতাধিক গ্রামবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যান কিশোরী মেহেরুন। এরপর থেকেই তার স্বামী হিমেল পলাতক রয়েছেন। কিশোরীর পরিবারের দাবি তাকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় গেলেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়কৃঞ্চপুর চেতনার মোড়ে মেহেরুনের স্বামীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় কিশোরীর বাবা মাহাবুর রহমানকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস দুয়েক হয়েছে মেয়েকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছি হিমেল নামের এক ছেলের সঙ্গে। বিয়েতে ২ লাখ টাকা, মোটরসাইকেলসহ অনেককিছুই দিয়েছি। কিন্তু ছেলে মাদকাসক্ত তা জানা ছিল না। বিয়ের পর থেকে মেয়েকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে সে।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি আমার মেয়েকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে তৌফিক। আমাদের না জানিয়েই মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার মেয়েকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে সে পালিয়ে যায়। আমরা প্রতিবেশীর কাছে থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু ১৫ জানুয়ারি সে মারা যায়।

raj-(2).jpg

মেহেরুনের ভাই মো. সম্রাট বলেন, হিমেল মাদকাসক্ত। যখন তখন বোনকে অর্থের জন্য মারধর করতো। খোঁজ নিয়ে জেনেছি তার নামে মাদক ও দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে। এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিল সে। তবে এসব বিষয় বিয়ের আগে আমরা কিছুই জানতাম না। কিন্তু বোনের হত্যাকাণ্ডের পর আমরা দুর্গাপুর থানায় গেলে সব জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুই মাস আগে বোনের বিয়েতে প্রায় ১০ লাখ টাকার গহনা ও জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছিল তাকে। এছাড়া আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছে সে। কিন্তু এরপরও মাদকের অর্থ যোগাতে সে আমার বোনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আমার বোনের শরীরে ও গলায় একাধিক আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জিলালুর রহমান বলেন, আমি আজই এ থানায় যোগদান করেছি। তাই মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে যেহেতু মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে, সেই রিপোর্টে হত্যা সম্পর্কিত তথ্য মিললে অবশ্যই মামলা নথিভুক্ত হবে।

তবে জেলা পুলিশের পুঠিয়া-দুর্গাপুর সার্কেল এসপি ইমরান জাকারিয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো প্রথমে থানায় মামলা হয়। আবার পরে তা স্থানীয় পর্যায়ে মিটমাট হয়ে যায়। মাঝখানে পুলিশের সময় নষ্ট হয়। সঙ্গে হয়রানিও হয়। এ কারণে এ ধরনের মামলাগুলোর সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত গ্রহণ করা হয় না। তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফয়সাল আহমেদ/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]