রাজশাহীতে চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫:০২ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানা পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- নগরীর রাজপাড়া থানার কেশবপুর এলাকার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. সালমান শরিফ বাবু (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার মোকররমপুরের মো. মইদুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৭)। জাহিদ নগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার ও আএমপির নগর মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার (১৭ জানুয়ারি) প্রতারক বাবু নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের কাছে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয়ে দেন বাবু। একপর্যায়ে সিরাজুলের শরীর থেকে রক্ত নেয় প্রতারক বাবু। একই সঙ্গে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরও কয়েকজন রোগীর শরীর থেকে রক্ত নেয় সে। হাসপাতালের চিকিৎসক মনে করে রক্ত দেয় তারা।

রক্ত সংগ্রহের পর প্রতারক বাবু সিরাজুলের ছেলে সুমনকে একঘণ্টা পর রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য বলেন। সুমন ওই দিন রাত ১১টায় রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার বাবার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট চাইতে গেলে অভিযুক্ত বাবু রিপোর্ট বাবদ চার হাজার টাকা দাবি করেন।

ওই সময় সুমন জানায়, সরকারি চিকিৎসক ভেবে তারা পরীক্ষা করার জন্য রক্ত দিয়েছেন। এতো টাকা দেওয়ার তাদের সামর্থ্য নেই। তাই সে তার বাবার কাগজ ফেরত চান। বাবার ভর্তি সংক্রান্ত কাগজ ফেরত চাওয়ায় ভুয়া চিকিৎসক বাবু ও জাহিদসহ আরও দুতিনজন সুমনকে রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আটক রেখে মারধর করেন। পরে তার কাছে থাকা ৪ হাজার ৫০ টাকা কেড়ে নেয়।

এ ঘটনার পর রোগী সিরাজুলের ছেলে সুমন রাজপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি টিম আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের লক্ষীপুর মোড় থেকে প্রতারক বাবু ও জাহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

নগর মুখপাত্র বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুজন গ্রেফতার করে তাদের প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ফয়সাল আহমেদ/এমএএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]