দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় বাবাকে গলা কেটে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২২

রাজশাহী নগরীর দামকুড়া এলাকার আসগ্রাম পাটনি পাড়ায় বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে স্বপনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে দামকুড়া থানা পুলিশ।

নিহতের নাম সাজ্জাদ হোসেন (৬৫)। দামকুড়া থানার পাটনিপাড়ায় মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে সাজ্জাদ হোসেনের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের নগর মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বৃদ্ধ সাজ্জাদকে তার ছেলে স্বপন হত্যা করেন। প্রথমে তিনি তার বাবাকে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে প্লাস্টিক দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর রাত ৩টার দিকে তার বাবার মরদেহ গোপন করার জন্য নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন নিজেই থানায় এসে তার বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশকে জানান।

ওই সময় তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশের জেরার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত স্বপন স্বীকার করেন তিনিই তার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করে তার বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছেন।

পুলিশ তার কাছে হত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তার মা এক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান। এতে আপত্তি জানান স্বপন।

আপত্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার বাবার সম্পত্তির ভাগাভাগি হয়ে যেতো। তাই তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন বিয়েতে। বারণ করার পরও তার বাবা না শোনায় তাকে ঘুমের মধ্যে প্রথমে প্লাস্টিক জড়িয়ে পরে চাকু দিয়ে হত্যা করেন।

স্বপনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার রাত তিনটার দিকে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে সাজ্জাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় স্বপনকে ওই দিনই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার দায়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা শেষে তাকে আজ দুপুরের দিকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ফয়সাল আহমেদ/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]