বরেন্দ্রজুড়ে তাপপ্রবাহ, অস্বস্তিতে জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২২
ফাইল ছবি

বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রকৃতির এখন যেন রুদ্রমূর্তি। রোদে যেন আগুন ঝরছে এ অঞ্চলে। সোমবার (২৫ এপ্রিল) রাজশাহীতে তাপপ্রবাহের পারদ চড়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে তাপপ্রবাহ অস্বস্তিতে জনজীবন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. রাজিব খান জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকদিন ধরে হঠাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকায় তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, মূলত শনিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে বরেন্দ্রজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। ওইদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি। পরদিন (২৪ এপ্রিল) ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে। তবে আজ পূর্বের তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, সকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৯৮ শতাংশ বিদ্যমান থাকায় ঠান্ডা ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে তা ৩২ শতাংশে চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকালও তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রির মধ্যেই থাকবে। একই সঙ্গে প্রকৃতিতে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করবে। তবে আগামী দু-তিন দিন পর বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, তাপপ্রবাহে বরেন্দ্র অঞ্চলের শহর ও গ্রামাঞ্চলে দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজশাহী নগরীর পোশাক ও নিত্যপণ্যের বাজারে ভিড় দেখা গেলেও জনজীবনে দেখা গেছে ক্লান্তি ও অস্থিরতা। পিচঢালা রাস্তা থেকে উঠে আসছে আগুনের উত্তাপ। তড়িঘড়ি কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন সবাই।

jagonews24

রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের মর্ডান ফ্যাশন গার্মেন্টসের ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম রানা বলেন, ঈদ কাছাকাছি আসায় বাজারে মানুষের ভিড় বেড়েছে। সকালের দিকে লোকজনের ভিড় ভালোই ছিল। কিন্তু দুপুর গড়ানোয় চাপ কিছুটা কমেছে। সন্ধ্যার পর থেকে আবার কেনাকাটার চাপ বাড়বে।

বড় বোনের সঙ্গে ঈদের পোশাক কিনতে আসা শিরোইল এলাকার বাসিন্দা মারুফা জাহান শ্রাবণী বলেন, এমনিতেই মার্কেটে প্রচণ্ড গরম, তারপরও আবার মানুষের ভিড়। এই গরমে পচ্ছন্দমতো কেনাকাটা করা খুব কঠিন ব্যাপার। এসি দোকানগুলো ছাড়া নরমাল দোকানে টেকাই দায়। আর সে কারণে কোনোরকমে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছি।

প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত রিকশাচালক রহিম মিয়া। শালবাগান পেট্রল পাম্পে ধুলা উড়ানো ঠেকাতে পানি দিচ্ছিলেন গোলাম সারোয়ার। পানি দেখেই দৌড়ে যান রহিম মিয়া। দু’হাত ভরে চোখে-মুখে ও মাথায় পানির ঝাপটা দেন তিনি। জানতে চাইলে বলেন, গরমে মাথা ঘোরাচ্ছে। রিকশা চালিয়ে দুপয়সা কামানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। রোদের তাপে রাস্তাঘাটে তেমন যাত্রী মিলছে না।

তীব্র তাপপ্রবাহের বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে এমনিতেই পানির টান বেশি। তার ওপর বৃষ্টির দেখা নেই। এমন তাপদাহ চলতে থাকলে ফসলের ক্ষতি হবে। এসময় আমসহ অন্যান্য ফসল টিকিয়ে রাখতে ডিপ ইরিগেশনের প্রয়োজন।

ফয়সাল আহমেদ/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]