এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণ: দুই মামলার বিচার চলবে একসঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ১১ মে ২০২২

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সময় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মে) দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক চাঁদাবাজির মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। এর আগে একই আদালতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলারও চার্জগঠন হয়েছিল। আগামী ধার্য তারিখ থেকে আলোচিত ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারকাজ একসঙ্গে চলবে।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাশিদা সাইদা খানম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

jagonews24

তিনি বলেন, মামলায় অভিযুক্ত আট আসামির উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলারই বিচারকাজ শুরু হলো। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে মামলা দুটির বিচারকাজ চলবে। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ কবে শুরু হবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আদেশ দেননি বিচারক।

এর আগে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা একই আদালতে বিচার করার জন্য আদেশ দিলে এতদিন ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের টিলাগড় এলাকার ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে আসা ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন কলেজের কয়েকজন ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী। এ ঘটনায় পরদিন সকালে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনকে আসামি করে দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

jagonews24

মামলার আসামিরা হলেন, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার বাসিন্দা এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার বাসিন্দা এমসি কলেজ ছাত্র শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরের গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)।

অভিযুক্ত সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বহুল আলোচিত এ মামলায় মোট ৫১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

ছামির মাহমুদ/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।