ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১৪ মে ২০২২
শ্লীলতাহানির ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি (বামে) ও অভিযুক্ত দাদন সরদার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ না করার অজুহাতে এক পান ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, পান ব্যবসায়ীর বৃদ্ধা মাকে মারধর ও মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুদ ব্যবসায়ী ও তার লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে রয়েছে পরিবারটি।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের হীরালাল দাসের ছেলে পান ব্যবসায়ী অজিত দাসের স্ত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে।

শনিবার (১৪ মে) সকালে পান ব্যবসায়ী অজিত দাস অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ী। এই ব্যবসার টাকায় তার সংসার চলে। পাঁচ বছর আগে পুঁজির সংকট দেখা দেয়। পুঁজি জোগাতে তখন পূর্ব লক্ষণকাঠী গ্রামের বাসিন্দা দাদন সরদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা উচ্চসুদে ঋণ নেন।

তিনি বলেন, করোনাসহ নানা কারণে পানের ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে খুবই দুঃসময় চলছে। এরমধ্যেও ঋণের টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত তিনি চার লাখ টাকা ঋণের জায়গায় সুদসহ ছয় লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন মহাজন দাদন সরদার। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দাদন সরদার পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য লোকজন নিয়ে তার (অজিত) বাড়িতে আসেন। এসময় তাকে (অজিত) বাসায় না পেয়ে ঋণের সুদের টাকার জন্য অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে বাসা থেকে বের করার চেষ্টা করেন দাদন সরদার। এসময় বৃদ্ধা মা বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে দাদন সরদার ও তার লোকজন চলে যান।

অজিত দাস আরও বলেন, দাদন সরদার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার টাকা-পয়সা আছে। মামলা বা অভিযোগ করলে আরও রোষানলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী ও প্রশাসনের আমাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।

অজিত দাসের প্রতিবেশী মো. ইব্রাহিম বলেন, ঘটনার দিন চিৎকার শুনে অজিত দাসের বাড়িতে গিয়ে দেখি, দাদন সরদার লোকজন নিয়ে গালাগাল করছেন। এমনকী অজিত দাসের স্ত্রীর হাত ধরে টানাহেঁচড়া এবং টাকা না দিলে অজিতের মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন তারা।

বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মান্নান জানান, সুদের টাকার জন্য একটি পরিবারের সঙ্গে এরকম আচরণ অমানবিক। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাদন সরদার বলেন, পাঁচ বছর আগে অজিত দাস আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন। গত পাঁচ বছরে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা এখনো পাওনা আছে। ওই টাকা পরিশোধ না করার জন্য এখন অজিত মিথ্যা কথা রটাচ্ছেন।

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইফ আমীন/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]