ধরাছোঁয়ার বাইরে পিবিআইয়ের সেই পরিদর্শক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ১০:১০ পিএম, ২০ মে ২০২২
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ

ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন খুলনায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ। ঘটনার পাঁচদিনেও তার কোনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ বরখাস্তও করা হতে পারে। এছাড়া ফৌজদারি মামলাতো চলছে।

এর আগে খুলনার তেরখাদা ও সাতক্ষীরার তালা থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নারী কেলেঙ্কারিসহ জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্লোজ হয়েছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ। ধর্ষণ মামলার আগে থেকেই তিনি ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে, কিন্তু তাকে খুলনায় সংযুক্ত রাখা হয় হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, ১০ মে মাসুদের সঙ্গে ডুমুরিয়ার ওই কলেজছাত্রীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। তখন মেয়েটি তার ছবি অন্য একটি আইডি থেকে ফেসবুকে প্রকাশ হয়েছে বলে মাসুদের কাছে নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চান। তখন থেকে মাসুদের সঙ্গে কলেজ ছাত্রীর নিয়মিত কথা হত। একপর্যায়ে ১৫ মে দুপুরে ওই ছাত্রীকে ফেসবুকে নিরাপত্তা শেখাতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন মাসুদ। পরে মেয়েটিকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। মেয়েটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে রেখে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, খুলনা পিবিআইতে আসার আগে মাসুদ সাতক্ষীরার তালা থানার তদন্ত পরিদর্শক পদে ছিলেন। খুলনার তেরখাদা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পদোন্নতি লাভ করেন মাসুদ। সেখান থেকে তাকে তালায় বদলি করা হয়। এ দুই থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অন্যর জমি দখল করিয়ে দেওয়াসহ নানা অভিযোগে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালা থানায় ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস হতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ওসি তদন্ত থাকাকালীন এক ছাত্রীর বিষপানে আত্মহত্যার বিষয়ে এক শিক্ষককে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন। সেই শিক্ষকের কাছ হতে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। উক্ত চাঁদার টাকা ওসি তদন্তকে দিতে নিষেধ করায় এলাকার যুব সংহতির নেতা বাহরুল ইসলামকে আটক করে জেলহাজতে পাঠান তিনি। তার নামে দেওয়া হয় একাধিক মামলা।

মাসুদের আগের কর্মস্থল খুলনার তেরখাদা থানার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর মুন্সি বলেন, প্রায় এক যুগ আগে মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ তেরখাদা থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন সদরের দক্ষিণ পাড়ার বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার মাধ্যমে বিয়ে করেন। ওই নারী বাধ্য হয় তার প্রথম স্বামীকে তালাক দিতে। এ ঘটনার পর তেরখাদা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় মাসুদকে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পরিদর্শক মাসুদের বিরুদ্ধে মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, মাসুদের পোস্টিং ছিল পিবিআই হেডকোয়ার্টারে। তাকে খুলনা কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। ধর্ষণ মামলার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিবিআইয়ের হেডকোয়ার্টারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন হেডকোয়ার্টারই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আলমগীর হান্নান/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]