লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, বাজেট মেলাতে কম কিনছেন ক্রেতারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ২২ মে ২০২২

করোনা মহামারির তাণ্ডব কমলেও স্বস্তি নেই জনজীবনে। মহামারি শেষ না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাংলাদেশেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশেও বাড়ছে। তবে ক্রেতারা দায়ী করছেন যথাযথ তদারকির অভাবকে। তাদের মতে, সরকারের তদারককারী সংস্থাগুলোর নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

শনিবার (২১ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবপ্রকার মাছে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। প্রকারভেদে ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা, ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি পিসে ২ টাকা বেড়েছে। এছাড়া দেশি, লেয়ার, সোনালী, সাদা কক মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

শম্ভুগঞ্জ বাজারের রাজলক্ষ্মী স্টোরের বিক্রেতা ভোলানাথ দাস বলেন, খোলা ও প্যাকেট আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি হয়েছে। এভাবে বাড়তে থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই চালের সমান হবে আটার দাম।

jagonews24

তিনি বলেন, দেশি মসুর ডাল সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসুর ডাল (মোটা দানা) ১১০ টাকা কেজি, মাসকলাই ৯০ টাকা, ভাঙা মাসকলাই ১৩০ টাকা, অ্যাংকর ১০ টাকা বেড়ে ৭০, বুটের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৯০, মুগডাল ১৪০ টকা, খেসারি ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।

পরিবারের জন্য মাছসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে বাজারে আসেন আলিমুল হাসান। তবে দাম বাড়ায় বাজেট মেলাতে মাছ না কিনেই ফিরে যান তিনি। জাগো নিউজকে আলিমুল বলেন, গত সপ্তাহে খেসারি ডাল কিনেছি ৭০ টাকা কেজি। এই সপ্তাহেই কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে দেখি আকাশছোঁয়া দাম। মাছ কিনলে প্রয়োজনীয় অন্য পণ্য কিনতে পারবো না। তাই মাছ না কিনেই চলে আসছি। বাধ্য হয়েই ডাল আর সবজি কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার বাস্তবায়ন নেই। আজ খোলা সয়াবিন তেল ২১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাম তেল ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন সরকার নির্ধারিত ১৯৮ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

ওই বাজারের মুরগি বিক্রেতা মকবুল বলেন, অনেক ব্যবসায়ী বেশি দাম পাওয়ার আশায় সোনালী মুরগিকে দেশি মুরগি বলে বিক্রি করছেন। তাছাড়া জোগান কম, চাহিদা অনেক বেশি। তাই মুরগির দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালী মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০, ব্রয়লার ১৪৫ টাকা, লেয়ার ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০, সাদা কক ২০ টাকা বেড়ে ২৭০, দেশি মুরগি ৫০ টাকা বেড়ে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মিয়া বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি রসুন ৮০ টাকা, আদা ৭০, আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, বাজারে শনিবার কচুর লতি বিক্রি হয় ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা প্রতিটি, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি, বেগুন ৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হয়। সপ্তাহের ব্যবধানে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। ধুন্দল প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০, কাঁকরোল ৬০, পটল ৪৫, শসা ৩০, টমেটো ৪০, কচুর মুখি ৬০, কাঁচা মরিচ ৮০, বরবটি ৮০, গাজর ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া কাঁচা কলার হালি ২৫ টাকা, কাঁচা আম ৩০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, শজনে ডাঁটা ১২০ টাকা কেজি, লেবু ১৫ টাকা হালি, ডাঁটা শাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা বিক্রি হয়।

মাংস বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ৪০ টাকা হালি, হাসের ডিম ৫৫ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ৬০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

কালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকি করা প্রয়োজন। তাহলে হয়তো বাজারের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তো। এর ফলে আমরা সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতাম।

শম্ভুগঞ্জ বাজারের মাছ বিক্রেতা আন্নাস মিয়া বলেন, মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে। কারণ একটাই, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম।

তিনি বলেন, শনিবার শিং মাছ ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া পাঙ্গাস ১৬০, তেলাপিয়া ১৮০, রুই ৪০০, সিলভার কার্প ১৮০, কাতল ২৫০, বাউশ ৩২০, মাসুল ৩৫০, গ্রাস কার্প ৩০০, কৈ ২৫০, টেংরা ৪৪০, পাবদা ৩৩০, গুতুম ৫০০, বাইম ৫৫০, বাতাসি ৬০০, গুলশা ৫০০, মৃগেল ২০০, মাগুর ৬০০, দেশি চিংড়ি ৮০০, ডিমা চিংড়ি এক হাজার, রাজপুঁটি ২২০, দেশি পুঁটি ২৫০, শোল ৭০০, টাকি ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়াও অন্যান্য সব মাছেরই দাম বেড়েছে।

দাম বৃদ্ধি ও তদারকির অভাবের বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছি। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

মঞ্জুরুল ইসলাম/কেএসআর/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]