প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি রাজু

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ১২ জুন ২০২২

আম, লিচু, আনার, মাল্টা, আপেলসহ হরেক রকমের ফলে সাজানো ছোট্ট একটি দোকান। মাঝখানে বসে আছেন একজন যুবক। মুখে স্ফীত হাসি। দূর থেকে মনে হবে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক যুবক।

তবে তিনি অন্যদের মতো স্বাভাবিক নন। দুটি পা অকেজো। ক্রাচে ভর করে চলেন। তারপরও অন্যদের ওপর নির্ভরশীল নন তিনি। ফলের দোকান দিয়েছেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী এ যুবকের নাম ইসমাইল হোসেন রাজু (৩৪)। মিরসরাই সদরে তার একটি ফলের দোকান রয়েছে। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবসা বেছে নিয়েছেন।

মিরসরাই উপজেলার মধ্যম মঘাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রাজু। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ইসরাফিল ইসলাম রাদিব (৮) ও হিমায়েত ইসলাম (৩) নামের তার দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

কথা বলে জানা যায়, অন্য শিশুদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে জন্ম হয় রাজুর। বজলুর রহমান ও হালিমা বেগমের সংসারে আনন্দের বন্যা। প্রথমে মেয়েসন্তান জন্মের পর প্রথম ছেলে সন্তান জন্ম হয়েছে। নাম রাখেন ইসমাইল হোসেন রাজু। সবার আদরে বেড়ে উঠতে থাকেন। কিন্তু বিধিবাম! চার বছর বয়সে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর হয় রাজুর। কিছুতেই জ্বর কমে না।

jagonews24

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেলো শরীরে টাইফয়েট বাসা বেঁধেছে। এরপর দেশে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পরে দেশের বাইরে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি রাজুর। দুটি পা অকেজো হয়ে যায়। এরপর থেকে ক্রাচে ভর করে চলতে হয় তাকে।

পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি রাজু। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাজীবন। পরে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে রাজুর ঘাড়ে।

সাত বছর আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুুঁজি দিয়ে মিরসরাই সদরে একটি ফলের দোকান দেন রাজু। প্রতিদিন দোকানে ৮-১০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এ দিয়েই তার সংসার খরচ চলে যাচ্ছে।

রাজু জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুঁজি দিতে পারলে প্রতিদিন ১৮-২০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি সুদমুক্ত ঋণ দিতো তাহলে আমার ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানো যেতো।’

ফল বিক্রির পাশাপাশি প্রতি তিনমাসে ২ হাজার ২৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পান রাজু। তিনি বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও কখনো অন্যের ওপর নির্ভর করিনি। সবসময় নিজে কিছু করার চেষ্টা করেছি।’

মিরসরাই বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল গনি তুহিন বলেন, রাজুকে ছোট থেকে দেখছি। সে খুব পরিশ্রমী। প্রতিবন্ধী হয়েও কোনোদিন কারও কাছে হাত পাতেনি। সে ব্যবসা করে চলছে। তবে তার পুঁজি কম। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাকে ব্যবসার জন্য সহযোগিতা করলে ভালো হতো।

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]