শেভরনের হঠাৎ ‘ফায়ার ফ্লো’, সিলেটে নগরে আগুন আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ২৪ জুন ২০২২
প্রতীকী ছবি

সিলেটের লাক্কাতুরা গ্যাস কুপে অতিরিক্ত গ্যাস পুড়ানোর (ফায়ার ফ্লো) মাধ্যমে নিয়মিত সংস্কার ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরন। ফলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরের লাক্কাতুরা এলাকার আকাশে আগুনের শিখা দেখা যায়। এরপর থেকে নগরবাসীর মধ্যে আগুন আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে বাসা-বাড়ির ছাদে উঠে কোথায় আগুন লেগেছে তা বুঝার চেষ্টা করেন।

সিলেট ফায়ার সার্ভসের অফিসেও আসতে থাকে একের পর এক ফোন। সবাই আতঙ্কিত লোকজন আগুনের উৎস সম্পর্কে জানতে চান। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিলেট কার্যালয়ের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকে শতাধিক মানুষ আমাদের স্টেশনে ফোন করে আগুনের উৎস জানতে কল দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও কল দিয়ে এর উৎস সম্পর্কে জানতে চাইছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবার মধ্যেই আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, কোথাও আগুন লাগেনি। লাক্কাতুরা গ্যাসক্ষেত্রে ফায়ার ফ্লো করছে শেভরন। তবে এরকম কিছু করার আগে আমাদের জানানোর নিয়ম রয়েছে। তারা আমাদের জানালেই আগেই এলাকায় ঘোষণা দিতে পারতাম। কিন্তু শেভরন কর্তৃপক্ষ আমাদের আগে থেকে এ ব্যাপারে জানায়নি। ফলে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

ফায়ার সার্ভিসের অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সিলেটের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা বেলাল আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শেভরনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীন এমন কাজ করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের কাজ করার আগে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো উচিত ছিলো তাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই বন্যা নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। এরমধ্যে এমন ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’

আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন জানিয়ে বেলাল বলেন, ‘আগুন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুটের ওপর উঠে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।’

নগরের ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঘাসিটুলা এলাকা থেকে আগুনের শিখা দেখা গেছে। এতে নগরের ওই এলাকায় আগুন লেগেছে ভেবে আতঙ্কে ছিলাম। তবে শেভরনের মতো প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে এমনটি করা ঠিক হয়নি।’

তবে সিলেট নগরের কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেভরন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত টেস্টিং ও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কুপের পাইপের অতিরিক্ত গ্যাস পুড়ানোয় বিকেল থেকে আকাশে আগুনের শিখা উড়তে থাকে। তা দেখে লোকজন কোথাও আগুন লেগেছে মনে করেছেন হয়তো।

শেভরনের কমিউনিকেশন কর্মকর্তা শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সংস্কার কাজ হিসেবে পাইপে থাকা অতিরিক্ত গ্যাস জ্বালানো হয়। তাই আগুনের শিখা দেখা গেছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ‘ফায়ার ফ্লো’ নিভে গেছে।’

নগরবাসীর মধ্যে আগুন আতঙ্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়েই এমন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

ছামির মাহমুদ/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]