শরীরে কেরোসিন ঢেলে নারীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, স্বামী-সতিন পলাতক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২৬ জুন ২০২২

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় রোজিনা আক্তার (৩০) নামের এক পোশাকশ্রমিকের শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও সতিনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আবু সাইদ তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুন) বিকেলে উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের পলশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রোজিনা আক্তার ওই গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে।

এ ঘটনায় রোববার (২৬ জুন) দুপুরে দগ্ধ রোজিনা আক্তারের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুক্তাগাছায় থানায় মামলা করেছেন।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের পলশা গ্রামের হারেজ আলী মাস্টারের ছেলে আবু সাঈদ ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিন বছর আগে একই গ্রামের রোজিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে সাঈদ বিভিন্ন সময় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার রোজগারের সব টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। রোজিনা স্ত্রী হিসেবে তাকে ঘরে তুলতে চাপ দিলে সাঈদ নানা টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

ঘটনার দিন বিকেলে রোজিনা তার কর্মস্থল ঢাকা থেকে এসে তার মাকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সাঈদের বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাঈদ ও তার প্রথম স্ত্রী হেপি আক্তার রোজিনা গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়াশলাই ঢুকে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালান। শরীরে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ে ছটফট করতে করতে রোজিনা দৌড়ে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দুই হাত ও শরীরের নিম্নাংসের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঝলসে যায়।

এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন মা ফরিদা বেগমও। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোজিনাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

দগ্ধ রোজিনা আক্তারের মা ফরিদা বেগম জানান, সাঈদ তার প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে রোজিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীর
মর্যাদা দাবি করলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। মেয়ের ওপর নির্মম নির্যাতনের বিচার দাবি করেন ফরিদা বেগম।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির সবাই পালিয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]