প্রেমিকের মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রেমিকার চাচা-চাচি কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

ময়মনসিংহে প্রেমিকের মাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমিকার চাচা-চাচিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনো খোঁজ মেলেনি প্রেমিক যুগলের।

বুধবার (২৯ জুন) বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতাররা হলেন মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী আছমা। তারা সম্পর্কে পলাতক স্কুলছাত্রীর চাচা-চাচি।

লাইলী বেগমের স্বামী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিবেশী খোকন ওরফে কাজল মিয়ার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে। বিষয়টি মেয়ে জানতে পেরে রোববার আমার ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। তারা ফিরে না এলেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় মঙ্গলবার সালিশ হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলে মেয়ের মা কনা আক্তার, চাচি নাসরিন, আসমা ও রুমা বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে দগ্ধ অবস্থায় লাইলীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করেন। সন্ধ্যার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইলীর মৃত্যু হয়।’

লাইলীর মেয়ে আতিয়া বলেন, ‘সবাই সব কিছুই ফিরে পাবে। কিন্তু আমার মাকে আর ফিরে পাবো না। মাকে যারা আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই।’

প্রতিবেশী হামিদা আক্তার বলেন, ‘ঘটনার কিছুক্ষণ আগে লাইলী ও শাশুড়িসহ পাশের বাড়িতে ছিলাম। সেখান লাইলী আমাদের রেখে একা বাড়িতে চলে আসেন। মেয়ের মা কনা আক্তার, চাচি নাসরিন, আসমা ও রুমা লাইলীকে একা বাড়িতে পেয়ে হাত-পা বেঁধে এক ঘরে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। লাইলীর চিৎকারে তার শাশুড়ি এসে ওই তিন নারীকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। পরে তার শ্বাশুড়ি ঘরে গিয়ে লাইলীর শরীরে আগুন জ্বলছে দেখে চিৎকার দেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার শরীরের আগুন নিভিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। লাইলীকে যেভাবে ওরা কষ্ট দিয়ে মরেছে, এভাবেই আসামিদেরও শাস্তি দিয়ে মারা হোক।‘

আরেক প্রতিবেশী ইব্রাহিম বলেন, ‘ছেলে মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে গেছে। এর সমাধান অবশ্যই ছিল। তাই বলে পুড়িয়ে মারবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের ফাঁসি চাই। যেন এমন অপরাধ আর কেউ করার সাহস না পায়।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্বামী আবদুর রশিদ বাদী হয়ে আটজনের নামে মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী আছমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ওসি আরও বলেন, দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ না পেলেও তাদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]