মেশিন নষ্ট, এক্স-রে করাতে খরচ দ্বিগুণেরও বেশি

জিতু কবীর জিতু কবীর , নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ৩০ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো মানুষ। বাড়তি ফি দিয়ে বাইরে এক্স-রে করাতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এছাড়া হাসপাতালের বেশ কিছু পদেও রয়েছে জনবল সংকট। দ্রুত এক্স-রে মেশিন সংস্কার অথবা নতুন মেশিন এনে কার্যক্রম চালুসহ জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

jagonews24

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১১ সাল থেকে এক্স-রে বিভাগ চালু হয়। ওই সময় থেকে প্রতিদিন অন্তত ২৫-৩০ জন রোগীর এক্স-রে করা হতো। কিন্তু ২০২০ সালের ১৫ জুলাই থেকে যন্ত্র নষ্ট থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বেশি টাকায় এক্স-রে করাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে এক্স-রে করাতে যেখানে ১৫০ টাকা লাগে সেখানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তিস্তা নদী বেষ্টিত উপজেলার দুস্থ ও অসহায় রোগীরা।

উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘১৫০ টাকার এক্স-রে ৪০০ টাকা দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটা চালু থাকলে এত টাকা লাগতো না।’

jagonews24

অন্যদিকে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারীর পদ ৪৩টি। কর্মরত আছেন ২৭ জন। ১৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তার পদ ১২টি। কর্মরত আছেন পাঁচজন। হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ আছে ৩১টি। কর্মরত আছেন ২৬ জন। চক্ষু ও হার্ট বিশেষজ্ঞ পদে চিকিৎসক নেই।

এখানে নার্সের পদ আছে ৩৮টি। কর্মরত আছেন ৩৭জন। তৃতীয় শ্রেণির ৯৩টি মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ৬১ জন। চতুর্থ শ্রেণির মঞ্জুরিকৃত ২১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬ জন।

jagonews24

গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ ফেরদৌস জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালটি উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল। চিকিৎসক ও নার্স সংকট তেমন একটা না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কিছু জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে জরুরি জনবল প্রয়োজন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন মানুষ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন ৫৫-৬০ রোগী ভর্তি আছেন। শীতকালে এ সংখ্যা কম থাকে।

আসিফ ফেরদৌস আরও বলেন, এক্স-রে মেশিন নষ্ট হওয়ায় কিছু অপারেশনে সমস্যা হয়েছে। মেশিন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এছাড়া অন্য সব ধরনের পরীক্ষাসহ অপারেশন চালু রয়েছে।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]