খুলনার বাজারে বেড়েছে মসলার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২২

সামনেই কোরবানির ঈদ। মাংস রান্নায় প্রয়োজনীয় উপকরণ গরম মসলা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খুলনার বাজারে বেড়ে গেছে গরম মসলার দাম। সেইসঙ্গে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে মসলার দাম একটু বেড়েছে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সুযোগ সন্ধানী, সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন তারা। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যেই মূলত তারা মসলার দাম বাড়িয়েছেন।

jagonews24

খুলনার একাধিক বাজার ঘুরে জানা যায়, এরই মধ্যে খুলনার মসলার বাজারে প্রতিটি মসলার দাম বেড়েছে ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

খুলনার কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রতিকেজি জিরা ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। একইভাবে লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানভেদে এলাচ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, কাজু বাদাম ৯০০ টাকা, পেস্তা বাদাম ২ হাজার ৫০০ টাকা, গোল মরিচ ৮০০ টাকা ও কিসমিস ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ ১৫ দিন আগে একই পণ্য প্রতিকেজি জিরা ৪২০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

অনুরূপভাবে লবঙ্গ ১ হাজার ১০০ টাকা, এলাচ মানভেদে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, কাজু বাদাম ৮০০ টাকা, পেস্তাবাদাম ২ হাজার টাকা, গোল মরিচ ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরের বড় বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন বলেন, বেশিরভাগ মসলাই অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানি ব্যয় বেশ কিছুদিন ধরে বেড়েছে। সে কারণে রোজার ঈদের পর থেকেই এর বাজার চড়া হতে শুরু করেছে। তার উপর ডলারের বিপরীতে দেশীয় টাকার মান কমে গেছে। ফলে মসলা আমদানিতে খরচও বেড়ে গেছে।

এই বাজারের ব্যবসায়ী বলরাম কুন্ডু বলেন, মসলার দাম বৃদ্ধির পেছনে অন্তর্জাতিক একটা ইস্যু রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজের বুকিং কমে যাওয়ায় পণ্যের আমদানি কমে গেছে। বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। আমরা কি কম দামে বিক্রি করব?

টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের মসলা ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মসলার বাজার চড়া। তবে কিছু কিছু মসলার দাম বাড়েনি। ঈদের আগে আরও এক দফা দাম বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

দৌলতপুরের ব্যবসায়ী শেখ ইমন বলেন, দাম বাড়েনি এমন একটা জিনিসও বাজারে নেই। এক সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজ ৩৫ টাকা ছিলো, এখন তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিন গেলে হয়তো আবার বেড়ে যাবে।

jagonews24

তিনি আরো বলেন, একবার কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তা আর সহজে কমে না। বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো নিজেদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। ক্রেতারা সেখানে অসহায়।

মসলার দাম বেড়েছে এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন ভোক্তা অধিকার খুলনার সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম।

তিনি বলেন, আমরা খুলনার বড়বাজারে মসলার বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। সেখানে কিছু মসলার দাম বাড়তি দেখা গেছে, উৎসবের সময় সেখানে এমন দাম বাড়ে। তবে যেভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে ঠিক সেভাবে দাম বাড়েনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মসলা প্যাকেটজাত না হওয়ায় দাম নির্ধারণ করা থাকে না, সে কারণে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না। আমরা ব্যবসায়ীদেরকে বলেছি মসলার দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে।

আলমগীর হান্নান/এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]