দুই সন্তানের মুখ দেখা হলো না প্রবাসী রাজিবের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২২

বিয়ের দুই বছর পর চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার রাজিব-পান্না দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান। কিন্তু জন্মের পর মাত্র এক ঘণ্টার মতো বেঁচে ছিল সেই নবজাতক। মাথায় ব্রেন টিউমার নিয়ে জন্মের কারণে মারা যায় শিশুটি। তখন রাজিব প্রবাসে থাকায় সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি।

এরপর দেশে আসেন রাজিব। এক বছর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। নাম রাখেন লামিয়া আক্তার। মা-দাদা-দাদির পরম আদরে বেড়ে ওঠে শিশু লামিয়া। তবে লামিয়াকেও দেখা হয়নি বাবা রাজিবের। কয়েকমাস পরে একমাত্র মেয়েকে দেখতে দেশে আসার কথা। কিন্তু কে জানতো এই সন্তানকেও দেখা হবে না তার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! বাবা দেশে আসার আগে পুড়ে অঙ্গার হয়ে লাশ হয়েছে এক বছরের শিশু লামিয়া।

বিদেশে বাকরুদ্ধ বাবা রাজিব। বাড়িতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা পান্না। চোখের সামনে আদরের সন্তান পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের গোলবক্স মুহুরী বাড়ির আজিজুল হকের ছেলে রাজিব উদ্দিনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পান্না আক্তারের চার বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর রাজিব এবং পান্নার কোলজুড়ে আসে একটি পুত্রসন্তান। সে সন্তান জন্মের এক ঘণ্টা পর ব্রেইন টিউমারে মারা যায়।

রাজিবের স্বজন হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিয়ের কয়েক মাস পর ভাইয়া প্রবাসে চলে যায়। এক বছরের মাথায় ভাবি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। জন্মের এক ঘণ্টার পর ব্রেইন টিউমারের কারণে শিশুটি মারা যায়। প্রবাসে থাকায় সেসময় সন্তানের মুখ দেখেননি রাজিব। ৫-৬ মাস পর উনি দেশে আসেন। দেশে এসে ৩-৪ মাস থেকে চলে যান। এরপর তাদের কোলজুড়ে আসে লামিয়া আক্তার।’

হুমায়ুন আরও বলেন, ‘লামিয়া আক্তারকে দেখার জন্য ছুটি নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে ভাইয়া রাজিবের। এ মাসের মধ্যে দেশে আসার কথা। তার আগে লামিয়া ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে অঙ্গার হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।’

লামিয়া একটু একটু করে কথা বলতে শুরু করেছিল। তাকে হারিয়ে তার দাদা-দাদি, মা, নানা-নানি, চাচাসহ স্বজনরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। শুক্রবার বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বসতঘর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে যাওয়া মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এক বছরের শিশু এভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। কপাল খারাপ! রাজিবের প্রথম সন্তানও জন্মের পর মারা গেলো। দ্বিতীয় সন্তানও জন্মের এক বছরের মাথায় চলে গেলো। খুবই মর্মান্তিক।’

দুপুরে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের গোলবক্স মুহুরী বাড়ির আজিজুল হকের পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি বসতঘরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় লামিয়া আক্তার নামের শিশুটি ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা যায়। তার মা দুপুরে তাকে বসতঘুরে ঘুম পাড়িয়ে পুকুরে গোসল করতে যান। এ সময় শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে মারা যায় ঘুমন্ত লামিয়া।

ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মীর হোসেন বলেন, নতুন ঘর তৈরির জন্য রাখা ছয় লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।