মিরসরাইয়ে অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠছে বেকারি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

বেশির ভাগ কর্মচারী হাতে গ্লাভস ছাড়াই ময়দা মাখছেন। খালি গায়ে আটা-ময়দার স্তূপে দাঁড়িয়ে খামির তৈরি করছেন। কেউ কেউ সে খামির মেশিনে তুলে দিচ্ছে। কারও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। কেউ এক হাতে সিগারেট অন্য হাত দিয়ে কাজ করছেন। খোলা তেলের ড্রামের ওপর মাছি ভনভন করছে।

এটি মিরসরাইয়ের বেশিরভাগ বেকারির সাধারণ দৃশ্য। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, পাউরুটি, কেক, মিষ্টির মতো অসংখ্য খাবার। আবার এসব বেকারি পণ্য বাহারি মোড়কে বাজারজাত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ বেকারির নেই ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, স্যানিটারি ও ট্রেডমার্ক ছাড়পত্র। ফলে তদারকির অভাবে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেকারি।

jagonews24

গত শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার আবুতোরাব বাজারের নিউ শহিদ বেকারি ও গনি বেকারি এবং পূর্ব মায়ানী রাবালিপোল এলাকার ইসপা বেকারিকে জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান।

উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শংকর প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় ২০টি বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিতে খাদ্য তৈরি হয় ওভেনে। বাকি ১১টিতে তৈরি হয় হাতে। এসব বেকারির পণ্য উপজেলার ৪৫টি বাজারের অন্তত এক হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান ও ২৪টি হোটেল-রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ৫০ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলার করেরহাট বাজারে সুরভি বেকারি, আজমির বেকারি, বাদামতলীর ঢাকা বেকারি। জোরারগঞ্জ বাজারে বারআউলিয়া বেকারি, ঠাকুরদিঘি বাজারে শুভপুর বেকারি, বামুন সুন্দর দারোগার হাটে আলাউদ্দিন বেকারি, আল্লারদান বেকারি, বারইয়ারহাটে বিসমিল্লাহ বেকারি, আবুতোরাব বাজারে রাহাত ফুড প্রোডাক্টস, গনি বেকারি, শহিদ বেকারি, বিষুমিয়ারহাটে মাহি বেকারি, রাবালিপোল বাজারে ইসপা বেকারি, মিরসরাই নিউ ঢাকা বেকারি, দারোগারহাটে রাজ বেকারি, মিরসরাই বাজারে আল আমিন, নিউ ঢাকা ফুড, নিউ মক্কা, মুরাদ বেকারি বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করলেও বেশিরভাগের অবস্থা নাজুক।

jagonews24

আবুতোরাব বাজারের গনি বেকারির মালিক আবুল বশর বলেন, বেকারি দিয়েছি মাত্র তিন বছর হয়েছে। শুধু ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স আছে। অন্য কোন লাইসেন্স নেই। বেকারির পণ্য কম চলে তাই লাইসেন্স নিচ্ছি না।

আবুতোরাব ফকিরপাড়ার শহিদ বেকারির মালিক শওকত আলী বলেন, আমার ছোট বেকারি। এতো কাগজপত্র লাগে আমার জানা নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি।

বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এস এ ফারুক বলেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এসব খাদ্য সামগ্রী খেলে যে কেউ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশুদের জন্য এসব খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

jagonews24

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, এখানকার বেকারিগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সরেজমিনে না গেলে বুঝতে পারতাম না। দু একটা ছাড়া সব বেকারিতে কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনপত্র, বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেই।

তিনি আরও জানান, অভিযান চালিয়ে তিন বেকারিকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।