১৬ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ শিক্ষক!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২২

কমিটি নিয়ে দলাদলি, শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব-বদলি, মামলা, শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থী না আসাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটী আলিম সিনিয়র মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানের জীর্ণদশার কারণে চুরি হয়ে যাচ্ছে নানা সামগ্রী। শিক্ষার্থী না থাকায় নতুন বইয়ের বান্ডিল শিক্ষক মিলনায়তনে পড়ে আছে। সেগুলোতে ধুলার আস্তরণ পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈরাটী গ্রামের আবদুর রউফসহ চার শিক্ষানুরাগী ১১০ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন মাদরাসাটি। প্রথম দিকে ভালোভাবে চললেও ১৯৯৯ সালে মামলা জটিলতায় পড়ে। ১৯৯৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১৬ সালে কমিটি গঠন, অধ্যক্ষ নিয়োগ ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে করা হয়েছে ৫-৬টি মামলা।

কাগজে-কলমে মাদরাসাটির শিক্ষার্থী ৫১০ জন। তবে শনিবার (১৩ আগস্ট) উপস্থিত ছিল মাত্র ১৬ জন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাতজন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ছিল চারজন। অন্যান্য ক্লাসে পাঁচজন। তাদের পাঠদানের জন্য ছিলেন ৯ শিক্ষক।

সূত্র জানায়, ওই মাদরাসায় আলিম প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ জন। তবে, শনিবার উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আক্তার বেলি ও আঙ্গুরা আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী। দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আরেকটি ক্লাসে একজন শিক্ষার্থী পাওয়া গেলেও ছিলেন না কোনো শিক্ষক। অন্য শ্রেণিকক্ষেও ছিল না কোনো শিক্ষার্থী।

১৬ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ জন শিক্ষক!

এ বিষয়ে মাদরাসাটির শিক্ষক ফাতেমাতুজ জোহুরা বলন, শিক্ষক সংকটের কারণেই প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা হয়েছে। শিক্ষকদের দলাদলি, বদলি, একাধিক মামলার কারণে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে।

দশম শ্রেণিতে কাগজে-কলমে ৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শনিবার ক্লাসে গিয়ে নাফিজা আক্তার তাবাসসুম নামের এক শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। সে জানায়, ক্লাসে পাঁচজন ছিল। তারা চলে গেছে।

নবম শ্রেণিতে ৬৪ থাকলেও বাস্তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। অষ্টম শ্রেণিতে উপস্থিত রুবাইয়া সুলতানা ঝুমা ও সুমাইয়া আক্তার জানায়, তারা তিনজন এলেও একজন চলে গেছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে না আসার কারণ জানা ও আসতে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে, শিক্ষকরা তা মানেন না।

১৬ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ জন শিক্ষক!

জমিদাতা পরিবারের সদস্য এবতেদায়ি শাখার সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, অধ্যক্ষ নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে আমি মামলা করেছি। অধ্যক্ষের উদাসীনতার কারণেই প্রতিষ্ঠানের এই দুরবস্থা।

মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, মামলা জটিলতা, করোনা ও নিজেদের দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। শিক্ষক পেলে পরিস্থিতি উন্নতি হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে সংযোগ কেটে দেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব, নিয়োগ বাণিজ্য, জমিদাতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব নিয়ে কমপক্ষে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে। কমিটির বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজা জেসমিন বলেন, মাদরাসাটি পরিদর্শন করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।