রহিমার আত্মগোপন

আইনি পদক্ষেপ নেবে গ্রেফতার হেলালের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা খুলনার দৌলতপুরের রহিমা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে গুম মামলায় গ্রেফতার হওয়া হেলাল শরীফের পরিবার। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণও চাইবে তারা।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘রহিমা বেগমের সৎ ছেলের কাছ থেকে জমি কিনেছিলাম। কিন্তু সেই জমির দখল তারা দেয়নি। এ নিয়ে অনেক ঝামেলা করেছে তারা। এমনকি মামলাও করেছিল। সেই মামলায় আমার স্বামীসহ যারা আসামি ছিলেন সবাই অগ্রিম জামিন নেন। কিন্তু তারা এতো প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে তা আমরা বুঝতে পারিনি।’

মনিরা আরও বলেন, রহিমা নিজে আত্মগোপন করেছিলেন এটা এখন দিবালোকের মতো সত্য। কিন্তু ২৭ আগস্ট রাত থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন এ মর্মে তার মেয়ে থানায় একটি গুম মামলা করেন। সে মামলায় আমার স্বামী হেলাল শরীফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যারা সবাই নির্দোষ।’

তিনি বলেন, ‘কেউ রহিমাকে অপহরণ বা গুম করেনি। কিন্তু এ মামলায় আমার স্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সামাজিকভাবে অনেক হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে। থানা পুলিশ ও আদালতে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। স্বামী বাড়িতে না থাকায় অনেক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। এসবের ক্ষতিপূরণ চাই আমরা। স্বামী জমিন পেলে ওদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামেন রহিমা বেগম (৫২)। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। রাতে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। এরপর সাধারণ ডায়েরি ও পরে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন তার সন্তানরা। এ মামলা তদন্তকালে পুলিশ ও র‌্যাব ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে।

১৪ সেপ্টেম্বর আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআইতে দেন। এখন এ মামলার তদন্ত করছে পিবিআই পরিদর্শক আব্দুল মান্নান। ২২ সেপ্টেম্বর রহিমার মেয়ে মরিয়ম আক্তার ওরফে মরিয়ম মান্নান দাবি করেন, তার মায়ের মরদেহ তিনি পেয়েছেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুরে দিনভর অবস্থান নেন এবং ব্যস্ততম সময় অতিবাহিত করেন। একই সঙ্গে সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারী মরদেহকে নিজের মা বলে শনাক্ত করেন।

এদিকে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুসের বাড়ি থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো কথা বলছেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলমগীর হান্নান/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।