গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪ বিমা কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২২

বরিশালের বানারীপাড়ায় চার শতাধিক গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চার বিমা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই চারজনের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠায় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া সম্প্রতি এক আদেশে তাদের বরখাস্ত করেন।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রতিদিনই উপজেলা শহরের ডাকবাংলা সড়কের রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বানারীপাড়া কার্যালয়ে ভিড় করছেন। তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, কোম্পানির বানারীপাড়া সার্ভিস সেলের ইনচার্জ (জেনারেল ম্যানেজার) মো. মিজানুর রহমান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ইনজামুল হক পিয়াল, শান্তনু আক্তার এবং সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান খোকন। তাদের মধ্যে মনিরুজ্জামান খোকন খোকন এবং শান্তনু আক্তার স্বামী-স্ত্রী।

বানারীপাড়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া ওই চার কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বানারীপাড়ায় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোম্পানির বানারীপাড়ায় কয়েক হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে চার শতাধিক গ্রাহকের বিমার ৩-৪ টি প্রিমিয়াম আদায় করে নিয়ম অনুযায়ী ওই টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। ওই চার কর্মকর্তা ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

কোম্পানির বরিশাল বিভাগীয় ইনচার্জ মো. শাহীন মাহমুদ মাসুম জানান, ওই চার কর্মকর্তা গত কয়েক মাসে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তাদের বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মো. শাহীন মাহমুদ মাসুম বলেন, ওই চার কর্মকর্তার কাছে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকরা প্রায় দিনই অফিসে এসে ধরনা দিচ্ছেন। গ্রাহকরা তাদের টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের বুঝিয়ে ও অর্থ আদায় করার আশ্বাস দিয়ে শান্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা অর্থ আদায়ে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে রূপালী লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বানারীপাড়া সার্ভিস সেলের সাবেক ইনচার্জ (জেনারেল ম্যানেজার) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমরা ভালো বেতন ও সুযোগ সুবিধা বেশি পেয়ে আরেকটি ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে যোগ দিয়েছি। এতে কর্তৃপক্ষ আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। তবে ২৫ জনের মতো গ্রাহকের বিমার প্রিমিয়ামের অর্থ আমাদের কাছে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের টাকা পাওনা আছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শিগগির সমাধান করা হবে।

সাইফ আমীন/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।