সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, পাঁচ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে পাঁচজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার নরসিংহ মর্ণেয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে আবুজার রহমান (২৮), হান্নানের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৭), মতিয়ার রহমান মুন্সির ছেলে নাজির হোসেন (৩২), আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (২৯) এবং আমিনুর রহমান (২৯)। এদের মধ্যে আলমগীর হোসেন পলাতক।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবুজার রহমানের সঙ্গে ভুক্তভোগী শাহীনার (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বিয়ের জন্য চাপ দিলে অস্বীকৃতি জানায় আবুজার।

ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ১৪ মে শাহীনার বাবা আইয়ুব আলী তার মাকে নিয়ে লালমনিরহাটে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। এসময় শাহীনা ও তার ১২ বছর বয়সী ভাগনি শান্তনা বাড়িতে ছিল। এ সুযোগে অভিযুক্ত আবুজার সহযোগীদের নিয়ে সন্ধ্যায় শাহীনার বাড়িতে গিয়ে তাকে ডেকে পাশের একটি ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন।

ওইদিন রাতে আইয়ুব আলী বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে শাহীনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীকালে থানায় হত্যা মামলা করেন আইয়ুব আলী।

প্রায় সাত বছর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।

জিতু কবীর/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।