আন্দোলনরত গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক


প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলনে নামা শ্রমিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
 
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি নানা অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বিনা কারণে ছাঁটাই হলে নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য পরিশোধ এবং ছুটিকালীন বেতন বহাল রাখার দাবিতে গত সোমবার থেকে আন্দোলন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা।
 
শুরুতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার উইন্ডি গ্রুপের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে ওই এলাকার আরো কয়েকটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা একই দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। সবশেষ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে গতকাল রোববার ১২টি কারখানার পোশাক শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন।
 
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) দেখা গেছে, জামগড়া এলাকায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আন্দোলনকারী জানান, ডিরোজ, পাইওনিয়ার, ওয়াশিং ডিজাইন, পলমল গ্রুপ, আইডিয়াজ, সাফা নিট, ডংজিয়ান, এনভয়সহ কমপক্ষে ১০টি কারখানার কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতারা গ্রুপ, বান্দো ডিজাইন, স্টার লিংক ক্রিয়েশন কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করছেন শ্রমিকরা।
 
শ্রমিকদের মতে, ২০১৩ সালের সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের বেতন অনুসারে তারা পান ৫ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এ বেতনে তাদের সংসার চলে না। তাই ন্যূনতম  মজুরি পাঁচ হাজারের বদলে ১৫ হাজার টাকা করার দাবি জানান তারা।
 
তাদের অভিযোগ, তারা নিয়ম অনুসারে গ্র্যাচুইটি পান না। প্রয়োজনে ছুটিও মেলে না। যদিও মেলে তাতে বেতন দেয়া হয় না।

এছাড়া কথায় কথায় ছাঁটাই হলেও মিলে না নিয়ম অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের প্রাপ্য। এছাড়া মালিকপক্ষ প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
 
আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহসিনুল কাদির শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা কার্যকর হয়। তার আগে ন্যূনতম মজুরি ছিল তিন হাজার টাকা। শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতিটি শিল্পের জন্য পাঁচ বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠিত হবে। তবে সরকার চাইলে যেকোনো সময় মজুরি কাঠামো সংশোধন ও পরিবর্তনে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
 
এমএ/এসআই/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]