Jago News logo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭ | ১৪ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

টানা উত্থানে শেয়ারবাজার


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
টানা উত্থানে শেয়ারবাজার

টানা উত্থান প্রবণতা বিরাজ করছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা ৪ কার্যদিবস মূল্য সূচক বেড়েছে। এর আগে গত ৮ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত টানা ১০ কার্যদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

টানা ১০ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ৮ জানুয়ারি মূল্য সূচকের কিছুটা পতন ঘটে। তবে একদিনের ব্যবধানেই আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সূচক টানা উত্থান প্রবণতায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএসইএক্স চালুর পর অতিতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে সূচক।

মূল্য সূচকের ভুল গণনা বন্ধ করতে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন সূচক ডিএসইএক্স চালু করে ডিএসই। শুরুতে সূচক গণনা শুরু হয় ৪০৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট দিয়ে। এরপর কয়েক দফা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ৫৩৩৪ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে উঠে আসে ডিএসইএক্স। আজকের (বৃহস্পতিবার) আগ পর্যন্ত সেটিই ছিল ডিএসইএক্সর সর্বোচ্চ অবস্থান।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচকে রেকর্ড হলেও লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যা আগের দিনের তুলনায় ২৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম।
 
এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৫০টির দাম বেড়েছে। অপরদিকে ১৫৮টির দাম কমেছে এবং ১৯টি কোম্পানির দাম অপরিবর্তীত রয়েছে। টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। এদিন কোম্পানির ৭০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বারাকা পাওয়ারের ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৬৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ইফাদ অটোস, ওরিয়ন ফার্মা, ডেস্কো, কনফিডেন্স সিমেন্ট, অলেম্পিক এক্সসরিজ, অ্যাপোল ইস্পাত এবং গ্রামীণ ফোন।
 
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ৭৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৭৫টি ইস্যুর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ১৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১০ সালের পতনের পর বাজার কয়েকবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এবারের বাজার চিত্র অন্য বারের তুলনায় ব্যতিক্রম। বাজারের গতি প্রকৃতি দেখে বোঝা যাচ্ছে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসছে। এটি বাজারের জন্য ভালো।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক সূচকগুলো পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। তারই প্রভাব দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ভালোভাবে তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগ করতে হবে।
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সুদের হারও বেশ কম। স্বাভাবিকভাবেই এর একটি ইতিবাচক প্রভাব শেয়াবাজারে পড়ছে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে শেয়ারবাজারে উত্থান ও পতন উভয় থাকবে। টানা পতন যেমন ভালো না তেমনি টানা উত্থানও বাজারের জন্য খুব পজেটিভ না।
 
তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাজার এগিয়ে যাওয়ায় পজেটি। গত কয়েকদিন বাজারে টানা উত্থান প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের খুবই সচেতনভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। গুজবে কান না দিয়ে, কোম্পানির সার্বিক আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এমএএস/আরএস/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...