Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিওর ভূমিকা রাখতে হবে



প্রকাশিত: ১২:৩৪ এএম, ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিওর ভূমিকা রাখতে হবে

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকরি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, এনজিওগুলো দেশের উন্নয়নেই কাজ করে। সরকার ও এনজিও মিলে একসঙ্গে কাজ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে এক্ষেত্রে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। সেই নীতিমালা নিয়ন্ত্রণমূলক নয় বরং হতে হবে সহযোগিতামূলক। তাহলেই এসডিজি বাস্তবায়ন কয়েকগুণ সহজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি ও সরকারি উন্নয়ন সংস্থার সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তায়নে বাংলাদেশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে তিনটি সেশন ছিল। প্রারম্ভিক অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেমিনারের সভাপতি ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান।

এ অধিবেশনে অতিথিদের মধ্যেপল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, ‘এনজিওগুলো দেশের উন্নয়নেই কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকার যদি আরও সহযোগিতা করে, তাহলে এসডিজি বস্তবায়নে এনজিওগুলো অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। সেই হিসেবে পিকেএসএফ-ও সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়।’

এছাড়া, পিছিয়ে পড়া খাতে আরও বেশি পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০৩০ সালকে নির্ধারণ করেছে। ওই বছরের মধ্যে সব লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না হলেও উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি- জিও এবং এনজিও একসঙ্গে কাজ করবে। কারণ, এসডিজি বাস্তবায়নে এর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদও ড. শামসুল আলমের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘আজ আমরা অনেক খুশি হয়েছি, এসডিজি বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হয়ে যাচ্ছে। এনজিও ও জিও একসঙ্গে কাজ করলে দেশের জন্য সুদূরপ্রসারী ফলাফল বয়ে আনবে।’

সেমিনারের দ্বিতীয় সেশনে উপস্থিত অতিথিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হয়। সেখানেও জিও এবং এনজিও একসঙ্গে কাজ করতে সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাড়তি বাজেট বরাদ্দ রাখার সুপারিশও করেন তারা।

সেমিনারের যুগ্ম সভাপতির বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এনজিওগুলো সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এখন শুধু স্বীকৃতির প্রয়োজন। জিও এবং এনজিও একসঙ্গে কাজ করার মধ্যদিয়ে দেশে উন্নয়নের একটি সেতু রচিত হবে।’

মূল অধিবেশনে যুগ্ম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ‘নিজেরা করি’ এর সমন্বয়ক খুশি কবির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান।

এমএ/বিএ

আপনার মন্তব্য লিখুন...