ওরিয়েন্ট ওভারসিজ কিনছে চীনের কসকো

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৯ এএম, ১১ জুলাই ২০১৭

৬৩০ কোটি ডলারে হংকংয়ের ওরিয়েন্ট ওভারসিজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে (ওওআইএল) ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান শিপিং জায়ান্ট কসকো। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে কসকো হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি। ডেনমার্কভিত্তিক  মায়েরস্ক বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং  কোম্পানি। এর পরই রয়েছে সুইজারল্যান্ডের মেডিটেরিয়ান শিপিং কোম্পানি। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এএফপি, বিবিসি, ব্লুমবার্গ ও রয়টার্স।

জানা গেছে রেগুলেটর ও কসকো শেয়ারহোল্ডারদের থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই ওওআইএল অধিগ্রহণের চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। কসকোর সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন হলে কোম্পানিটি ওওআইএলের ৯০ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার হবে। বাকি ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল পোর্টের হাতে। 

এদিকে সম্ভাব্য এই অধিগ্রহণ চুক্তির খবরে গত সোমবার হংকংয়ের পুঁজিবাজারে ওওআইএল ও কসকোর শেয়ারদর যথাক্রমে ২০ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৭২.০০ এবং ৪.৩০ হংকং ডলারে বিক্রি হয়েছে। 

হংকংয়ের সাবেক নেতা তুং চে-হুয়ার পারিবারিক কোম্পানি ওওআইএল নিজেদের ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। কসকোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওওআইএলের প্রতি শেয়ার বাবদ ৭৮ দশমিক ৬৭ হংকং ডলার মূল্য ধরা হয়েছে। ওওআইএলের নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি টং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, খুব সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। আশা করছি, এটি কোম্পানির ভবিষ্যত সফলতার জন্য সহায়ক হবে।

oocl

ওদিকে হংকংকে আন্তর্জাতিক জাহাজ শিল্পের কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে কসকো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়ান মিন। তিনি বলেন, ওওআইএলের ব্যবস্থাপনা দল, বিশেষজ্ঞ এবং কোম্পানিটির ব্র্যান্ড ও সংস্কৃতির ওপর আমাদের পুরোপুরি শ্রদ্ধা রয়েছে।

অন্যদিকে ৯৩০ কোটি ডলারে নিজেদের বেশকিছু সম্পদ বিক্রয়ে সম্মত হয়েছে কনগ্লোমারেট দালিয়ান ওয়ান্ডা । আন্তর্জাতিক পরিসরে অধিগ্রহণের জন্য সুপরিচিত দালিয়ান ওয়ান্ডা গ্রুপ নিজেদের মালিকানায় থাকা ৭৬টি হোটেল ও ১৩টি পর্যটন প্রকল্পের সিংহভাগ বিক্রি করে দিচ্ছে। চীনের এ কনগ্লোমারেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৯৩০ কোটি ডলারে তারা এসব সম্পদ সুনাক চায়না হোল্ডিংয়ের কাছে বিক্রি করে দেবে। বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে সম্ভাব্য তদন্তের খবর পেয়ে কোম্পানিটি নিজেদের ঋণ কমানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি হবে চীনের এ যাবত্কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রপার্টি ডিল। সম্প্রতি চীন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে বিদেশে সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এ বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের অনেকটাই হয়তো ‘নিয়ম মেনে হচ্ছে না’। এর মধ্যে ওয়ান্ডার মালিক চীনের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তি ওয়াং জিয়ানলিনও রয়েছেন।

অর্থনীতি-বিষয়ক সাময়িকী কাইজিনকে ওয়াং বলেন, ঋণ কমানোর অংশ হিসেবে এখন সম্পদ বিক্রি করব আমরা। আর এ থেকে যে অর্থ আসবে, তা ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই ব্যাংক থেকে নেয়া বেশির ভাগ ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ান্ডা।

এমএমজেড/জেআইএম