বিডিবিএলের বড় সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৩ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
বিডিবিএলের বড় সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী বলেছেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো করলেও বর্তমানে ব্যাংকটির বড় সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। তবে বর্তমানের পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও মেধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ব্যাংকটি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিডিবিএলের অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারকে ক্যাশ ডেভিডেন্ট বাবদ ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের হাতে বিডিবিএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী এ চেক হস্তান্তর করেন। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, বিডিবিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুর আহমদ, পরিচালক শাহাবুদ্দিন আহমদ, সালমা নাসরীন এনডিসি ও মো. এখলাছুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইয়াছিন আলী বলেন, এ ব্যাংকটির অন্যান্য কার্যক্রম খুব ভালো হলেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিই ব্যাংকটির প্র্রধান সমস্যা। খেলাপি ঋণের সমস্যা থাকলেও শেয়ার বাজারসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংকটি লাভ করেছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকটি মোট ৬৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে মূলত ট্রাম লোনের (মেয়াদি লোন) ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে। আর বিডিবিএল মূলত ট্রাম লোন দিয়ে থাকে। তাই এ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। তবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও মেধা দিয়ে খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

ব্যাংটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমদ বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার সঙ্গে ব্যাংটির লেনদেন ছিল। তাই তখন বেশকিছু ঋণ আদায় সম্ভব হয়নি। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

বিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৯ শতাংশই খেলাপি ঋণ।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, খেলাপি ঋণ বড় সমস্যা বলে থেমে থাকলে চলবে না। ঋণ খেলাপি কি কারণে হয় সে বিষয়ে আরো বেশি বেশি পর্যালোচনা করতে হবে। এ বিষয়ে আরো গভীরভাবে কাজ করতে হবে। খেলাপি ঋণ কিভাবে আদায় করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ঋণ প্রদানের পর মনিটরিং করার বিষয়টি বাড়াতে হবে।

এমইউএইচ/এআরএস/পিআর