শেষ হলো ‘৫ম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
শেষ হলো ‘৫ম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’

‘অপরচুনিটিস ইন এগ্রো ফুড প্রসেসিং ফর নিউ বিজনেস ভেনচারস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘৫ম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৭’। শনিবার সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের প্রদর্শনী শুরু হয়। বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সল্যুশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রদর্শনীতে ১৫টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান ৪৫০টি স্টলে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের প্রচার, প্রসার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন খাত তৈরিই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য।

jagonews24

তিন দিনের মেলায় একই ছাদের নিচে ‘৫ম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৭’, ‘এগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৭’ ও ‘রাইস অ্যান্ড গ্রেইনটেক এক্সপো-২০১৭’ নামের তিনটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনের এ মেলায় প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল কারিগরি সেশন। যেখানে দেশ-বিদেশের এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ম্যাচিং সেশনের ব্যবস্থাও ছিল এ মেলায়। সেমিনারে প্রধান অতিথি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রতিনিয়ত মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও। মানুষ এখন প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবারের প্রতি অধিক মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা মানুষের সেই মনোভাবের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত করছি।

তিনি বলেন, এক দশক পর বাংলাদেশে এ খাতে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। এতে ব্যবসার পাশাপাশি খাবারের মানও বাড়বে। কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সেমিনারে (বাপা সভাপতি) ফখরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, মেলার মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসার করাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রসার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় করানোই এ মেলার অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করি।

jagonews24

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি প্রধান দেশ, এখানকার ৭৪ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে। যদিও দেশে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের ১৪ শতাংশ নানাভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা নষ্ট হওয়া এ খাদ্যদ্রব্যের মাত্র ২ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে গত বছর ১৬০ কোটি টাকার খাদ্য রফতানি করেছি। আগামী ৫ বছরে তা বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করব।

এ সময় তিনি খাদ্য পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা রফতানিতে প্রাণ গ্রুপ বিশেষ অবদান রাখছে উল্লেখ বলেন, এ দেশে প্রাণ কোম্পানি পথ দেখাচ্ছে। প্রাণ এখন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড।

উল্লেখ্য, বাপা যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালে ১৩ জন সদস্য নিয়ে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৭৯, যারা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিশ্বের ১৪০টি দেশে রফতানি করে চলেছেন। গত অর্থবছরে খাদ্য রফতানির মাধ্যমে বাপার সদস্যরা ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন।

এএসএস/এমআরএম/আরআইপি