সেন্টমার্টিনে আবর্জনা অপসারণে কাজ করছে কোকা-কোলা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৯:৫৪ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

বিশ্বব্যাপী যৌথ অংশীদারিত্ব হিসাবে কোকা-কোলা বাংলাদেশ ওশান কনজারভেন্সির কান্ট্রি কো-অরডিনেটর কেওক্রাডং সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিবেশকে আবর্জনা মুক্ত রাখার পাশাপাশি সাগর ও সাগর পাড়ে দূষণের মূল কারণ খুঁঁজে বের করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিয়েছে।

অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্যে হলো- সমুদ্রের পানি দূষণমুক্ত রাখার জন্য যথোপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন এবং তার সঙ্গে মানুষকে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবগত করার মাধম্যে সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ করা।

বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ৩১তম ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ উপলক্ষে দুটি সংস্থা দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকত পরিষ্কারে অংশ নিয়েছে। এটি এই দুটি সংস্থার একসঙ্গে টানা ৭ম বছরের পথচলার ধারাবাহিকতা।

ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী প্রয়াস। এ উদ্যোগ হাজার হাজার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে সমুদ্র সৈকত, লেক ও জলপথ থেকে মিলিয়ন পাউন্ডের আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে। গত সাত বছরে কোকা-কোলা বাংলাদেশ এবং কেওক্রাডং বাংলাদেশের সহায়তায় ৩৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী সেন্টমার্টিন থেকে ৮ হাজার ৪০০ কেজি সামুদ্রিক আবর্জনা পরিষ্কার করেছে।

coka

এ বছরের কোস্টাল ক্লিনআপের স্লোগান ছিল ‘পিক ইট আপ, ক্লিন ইট আপ, সি চেঞ্জ’। এতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

সংগ্রহীত আবর্জনার তথ্য সংগ্রহ করে তা ওশান কনজারভেন্সির ট্র্যাশ ডাটাবেসে আপলোড করা হয়। এছাড়া আবর্জনা সংগ্রহের পরদিন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত খাতা বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংস্থার পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। ফেলে দেয়া আবর্জনাই সমুদ্র দূষণের মূল কারণ; কেবল মাত্র সেন্টমার্টিনের স্থানীয় মানুষ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পর্যটকদের ব্যবহারগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই এ দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কোকা-কোলা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য অকল্পনীয় এবং এর ফলে এখানে অনেক পর্যটক আকৃষ্ট হন। যা অনেক সময়ই এখানকার সংবেদনশীল ইকো সিস্টেমের ব্যাঘাত ঘটায়। গত ছয় বছরের মতো এ বছরেও পর্যটক, স্থানীয় জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমরা কোস্টাল ক্লিনআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দেয়া প্রতিশ্রুতি দূষণমুক্ত পানি, সবুজ, পরিষ্কার ও টেকসই পরিবেশের অঙ্গীকার পূরণে সক্ষম হবেন বলেও তিনি আশা করেন।

আরএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :