মেলায় টোকাইদের উৎপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮
ছবি- মাহবুব আলম

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮ এর প্রথম দিন থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে টোকাইরা। অসংখ্য টোকাই মেলার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছে। মেলা থেকে কেউ কোনো খাবার কিনলে অথবা এক স্থানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ গল্প করলে ঘিরে ধরছে তারা।

এমনকি মেলাপ্রাঙ্গণের ভেতরে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। একটি স্টলের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। টোকাইদের এমন উৎপাতে বিব্রত মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।

অধিকাংশ টোকাইয়ের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ১০ বছর কম বয়সীরাও রয়েছে।

মেলার প্রধান গেট দিয়ে একটু সামনে এগোলে প্রাণ দুধের স্টল। স্টলটি থেকে তিন বন্ধু দুধ কেনেন। স্টলটির সামনে থেকে একটু সরে ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে সেই দুধ পান করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। তাদের ঘিরে ধরেন দুই টোকাই। হাত বাড়িয়ে তাদের কাছ থেকে দুধ চাওয়া শুরু করেন। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা দুধের কাপ টোকাইদের হাতে তুলে দেন।

ওই তিন বন্ধুর একজন মো. জামাল হোসেন বলেন, বাণিজ্য মেলায় বন্ধুরা মিলে এসেছি আনন্দ করতে। কিন্তু মেলার সর্বত্রই দেখছি টোকাই আর টোকাই। কোথাও দু’মিনিট দাঁড়িয়ে গল্প করার জো নেই। কেউ না কেউ এসে হাতপাতা শুরু করে। মেলায় টোকাইদের এমন উৎপাত আগে কখনো দেখিনি।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মেলা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়। মেলায় ভালো ভালো মানুষ ঘুরতে আসেন। কিন্তু এখানে যদি এমন পরিবেশ থাকে তাহলে বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

প্রাণ দুধের স্টল থেকে একটু দূরেই কোকোলা নুডলস’র স্টল। সেখান থেকে গরম পানিসহ কাপ নুডলস নিয়ে কয়েকজন দর্শনার্থী পাশের একটি গলিতে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলেন। মিনিট না যেতেই তাদের কাছে ছুটে আসে বস্তা ঘাড়ে ঝুলিয়ে এক টোকাই। খাবারে মুখ দিতেই টোকাই এসে হাজির। বকা দিয়ে তাদের ফেরানো গেলো না। অবশেষে কাপ তুলে দিয়ে মুক্তি মিললো।

স্থানটিতে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আট টোকাইয়ের দেখা মিললো। তাদের একজন ১০ থেকে ১২ বছরের ইব্রাহিম। মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের সরদার শামীমের অধীনে কাজ করে সে।

মেলার ভেতরে কীভাবে প্রবেশ করলে- জানতে চাইলে সে বলে, টিকিট কেটে। বস্তা কীভাবে আনলে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলে, মাজায় গুঁজে এনেছি। বের হওয়ার সময় বস্তা কীভাবে বের করবা? বলে, কোনো সমস্যা হবে না। গেট দিয়েই বের করবো। আমাদের লোক আছে, কেউ বাধা দেবে না।

কথা হয় টোকাই কামালের সঙ্গে। তার সরদারের নাম জিজ্ঞাসা করলে বলে, আমি কোনো সরদারের অধীনে কাজ করি না। যা পাই তা বিএনপি বাজারের ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করি। প্রতি কেজি প্লাস্টিকের দাম দেয় ২০ টাকা।

মেলার ভেতরে কীভাবে এলে- জানতে চাইলে সে বলে, গেট দিয়ে আইছি। কেউ বাধা দেয়নি। আমরা আসি, এটা সবাই জানে। এখানে আমার মতো অনেকে আছে।

মেলার ভেতরে তুর্কি প্যাভিলিয়নের পাশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে এক টোকাই তর্ক বাধিয়েছে। কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। নিরাপত্তাকর্মী হাতের লাঠি দিয়ে ওই টোকাইকে মারতে গেলে উল্টো সে হাতের মুষ্টিবদ্ধ ঘুসি ছুড়ে দেয় নিরাপত্তাকর্মীকে। পাশ থেকে ছুটে আসেন অপর নিরাপত্তাকর্মী। একই সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয় আরো টোকাই। এর মধ্যে এক টোকাই হাতে বাঁশ নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীকে মারতে উদ্যত হয়। কিন্তু মানুষের জটলা বেড়ে যাওয়ায় টোকাইয়েল বাঁশের আঘাত থেকে রক্ষা পান নিরাপত্তাকর্মী।

হাতাহাতির কারণ কী- জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী আল-আমিন বলেন, ওই টোকাই টাকা চুরি করেছে। এখানে দাঁড়িয়ে কাউকে শান্তিমতো খেতে দিচ্ছিল না। তাই ওদের সরিয়ে দিতে যাই। এতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মারতে উদ্যত ওই টোকাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। রুবেল পরিচয় দিয়ে সে বলে, সিকিউরিটি গার্ড আমার গেঞ্জি খুলে নিয়েছে। আমার পকেটে পাঁচশ টাকা ছিল, তাও নিয়েছে। এতো টাকা কোথায় পেলে জানতে চাইলে সে বলে, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নিয়েছি।

এমএএস/এমএআর/এএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :