বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরে বনায়ন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৯ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা নতুন চরে বনায়ন হবে। এর মাধ্যমে চর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত এবং স্থায়ীকরণ, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে সবুজ বেষ্টনী তৈরি, কার্বন মজুদ বৃদ্ধি, আবাসস্থল এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের ৯টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলার চর এলাকার সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন হবে। ব্যয় হবে ১০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য “বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় পাঁচ হাজার ২২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সভায় অনুমোদিত ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি নতুন এবং একটি সংশোধিত প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন চার হাজার ৭৪৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প সাহায্য ৪৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- ‘শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা’ প্রকল্প- যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।

‘ডিজাস্টার রিক্স ম্যানেজমেন্ট ইনহ্যানসমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট ২ ও ৩)’ প্রকল্পে মোট ব্যয় ৬২০ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ১৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

মৃত্তিকা গবেষণা ও গবেষণ সুবিধা জোরদারকরণ (এসআরএসআরএফ) প্রকল্প ব্যয় ৬৩ কোটি আট লাখ টাকা। ‘ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি এক লাখ টাকা।

‘শেখ রাসেল এভিয়ারি ও ইকোপার্ক স্থাপন, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ‘বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন’ প্রকল্প ব্যয় ১০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প ব্যয় ৫৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ‘চট্টগ্রামের পারকি ও পতেঙ্গায় পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন, প্রকল্প ব্যয় ৬২ কোটি ১১ লাখ টাকা। সালনা (রাজেন্দ্রপুর)-কাপাসিয়া-টোক–মটখোলা মহাসড়ক (আর-৩১২) প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ’ প্রকল্প ব্যয় ২২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

মিরপুর ডিওএইস গেট-২ থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ১৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। পাগালা-জগন্নাথপুর-রানিগঞ্জ-আউশাকান্দি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতুর জায়গায় সাতটি সেতু এবং নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কের আবুয়া সেতুর নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

‘বানৌজো শের-ই বাংলা, পটুয়াখালী স্থাপন’ প্রকল্পে ব্যয় এক হাজার ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ‘চট্টগ্রাম আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স নির্মাণ; প্রকল্প ব্যয় ১৮০ কোটি টাকা। ‘ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (ওজোপডিকো) এলাকার জন্য ‘স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং’ প্রকল্প ব্যয় ৪২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ‘শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পোপালগঞ্জ’ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। এর ব্যয় ১১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, আইএমইডির সচিব মফিজুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ।

এমএ/বিএ/আরআইপি