আমানত ফেরতে ফারমার্সের ব্যর্থতায় টিআইবির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৬:১৫ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
আমানত ফেরতে ফারমার্সের ব্যর্থতায় টিআইবির উদ্বেগ

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের (বিসিসিটিএফ) ৫০৮ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ (আমানত) ফেরত প্রদানে ফারমার্স ব্যাংক ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি গ্রাহকদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের গচ্ছিত আমানতের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী তা ফেরত প্রদানে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যর্থতা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য এক অশনিসংকেত। জলবায়ু তহবিলের ৫০৮ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারে সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড়ে বিলম্ব হলে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরও বাড়বে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল গঠনের উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে তহবিলটি পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে ভালো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে জমা না করে কোন যুক্তিতে, কার স্বার্থে ফারমার্স ব্যাংকে অধিক মুনাফার নামে জলবায়ু তহবিলের প্রায় অর্ধেক অর্থই বিনিয়োগ করা হয়েছিল তা যথাযথভাবে তদন্ত করে এতে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ একই সঙ্গে টিআইবির পক্ষ থেকে তিনি জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুসরণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘তারল্য সংকটের প্রেক্ষিতে ফারমার্স ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের আমানত ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ঋণ জালিয়াতিসহ ব্যাংকটির লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বোঝা গ্রাহকদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

এ সময় আমানতের অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেয়াসহ ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ও অন্যান্য অনিয়মে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। ফারমার্স ব্যাংক তথা সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে প্রাক্তন পরিচালনা পর্ষদসহ উক্ত ব্যাংকের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

এমইউএইচ/এমএমজেড/আইআই