আইসক্রিমের কাটতি নেই

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

গরম পড়লে বেড়ে যায় ঠান্ডার চাহিদা। বিশেষ করে রকমারি আইসক্রিমের কাটতি বেড়ে যায় বহুগুণ। শীত এলে বা ঠান্ডা পড়লে দেখা মেলে বিপরীত চিত্র। ভাটা পড়ে আইসক্রিম বিক্রিতে।

বিক্রেতারা হাক-ডাক দিয়েও ক্রেতা খুঁজে পান না। ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও এমন চিত্র দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের ন্যায় রাজধানী ঢাকাতেও পৌষের কনকনে শীতে জবুথবু মানুষ। শিশু-বৃদ্ধ-যুবক সবাই প্রচণ্ড শীতে কাতর। এ অবস্থায় আইসক্রিমে জিহ্বা লাগানো মানে শীতের কাপুনি আরো বাড়িয়ে দেয়া। এ কারণে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আইসক্রিম বিমুখ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইগলু, লাভেলো, বেলিসিমো, পোলার, ব্লুপ স্টল দিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করছে। পাশাপাশি এককভাবে ছোট আটটি স্টল নিয়ে ইগলু বিক্রি করছেন আট ব্যবসায়ী।

ice

বড় স্টলের পাশাপাশি মেলায় আইসক্রিমের ছোট স্টলগুলোতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তেমন নেই। সেখানে বিক্রয়কর্মীরা অধিকাংশ সময় অলস সময় পার করছেন।

তৌফিক ফুড অ্যান্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ মেলায় নিয়ে এসেছে লাভেলো আইসক্রিম। মেলার প্রধান ফটক থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলেই এর স্টল। এখানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে আছেন বেশ কয়েকজন, তবে তাদের কর্মব্যস্ততা তেমন নেই।

স্টলটির ইনচার্জ আল মামুন বলেন, শীতের সময় আইসক্রিমের চাহিদা একটু কম থাকে। কয়েকদিন ধরে কনকনে শীত পড়ছে। সে কারণে বিক্রি খুব একটা হচ্ছে না। এরপরও কিছু মানুষ আছেন যারা আইসক্রিম খাবেন-ই। তারা এসে আইসক্রিম কিনছেন। তবে আমাদের স্টল নেয়ার মূল উদ্দেশ্য বিক্রয় নয়, প্রচারণা চালানোই মুখ্য বিষয়- বলেন তিনি।

ice

ইগলু স্টলেও একই অবস্থা। প্রধান ফটক দিয়ে পূর্বদিকে অগ্রসর হলে স্টলটির দেখা মিলবে। এখানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অথবা বসে আছেন কয়েকজন বিক্রয়কর্মী। সবারই পরনে ধবধবে সাদা পোশাক।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বিবিএ’র শিক্ষার্থী শ্রাবণী বিজনেস প্রমোটার (বিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইগলুর স্টলে। তিনি বলেন, শীতের কারণে আইসক্রিমের বিক্রি কম। দিনের বেলায় কিছু ক্রেতা আসেন। সন্ধ্যার পর শুধু বসে থাকা। কয়েকদিন ধরে বেশ ঠান্ডা পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্রি কম হওয়াটা স্বাভাবিক।

কাজী ফার্ম মেলায় নিয়ে এসেছে বেলিসিমো আইসক্রিম। প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার মো. রিপন বলেন, মেলায় আমরা প্রায় ১৫ ফ্লেভারের আইসক্রিম এনেছি। ক্রেতাদের বেশি পছন্দ ১২০ টাকা মূল্যের পার্লার আইসক্রিম।

বিক্রির পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে একটু বেশি বিক্রি হয়েছে। মূলত শিশুদের এ আইসক্রিম বেশ পছন্দ। কিন্তু ঠান্ডার কারণে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের আইসক্রিম খেতে দিচ্ছেন না।

গোল্ডেন সার্ভেস্ট’র ব্লুপ আইসক্রিম স্টলের চিত্রও একই। বসে বসে সময় পার করছেন এর বিক্রয়কর্মীরা। অলি মিয়ার আইসক্রিম স্টলের স্বত্বাধিকারী মো. অলি মিয়া জানান, মেলায় আমার মতো আট ব্যবসায়ীর আইসক্রিমের ছোট স্টল রয়েছে। আমাদের স্টল নিতে খরচ পড়েছে নয় লাখ টাকা। অন্যবার মেলার বাইরে আইসক্রিম বিক্রি করতাম। এবার ভেতরে বসছি। কিন্তু বিক্রি নেই। শীতের কারণে মানুষ আইসক্রিম খেতে চাচ্ছেন না।

এমএএস/এমএআর/জেএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :