অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চান শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৮ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে থাকা সরকারি ব্যাংকগুলোর ডিপোজিট ফেরত নেয়ার নির্দেশ দেয়ার কারণে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা তুলে নেয়ার জন্য প্রয়োজনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা।

মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডারদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবির কাছে আমানতের একটি অংশ জমা রাখে। আর আইসিবি সেই অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছিল সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার কমাতে হবে।

‘এই বিষয়ে দীর্ঘদিন কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু হঠাৎ করেই আইসিবির কাছে থাকা ডিপোজিট ফেরত চাইতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক আইসিবির কাছে টাকা চাইলে, আইসিবি শেয়ার বিক্রি করছে। প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যার জন্যই বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে’ বলেন সাদেক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সার্কুলার তুলে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর কাছেও যাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কম সুদে ঋণ দিয়ে ব্যাংকের কাছে এখন তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের কাছে টাকা নেই। যার জন্য বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে ব্যাংক। সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও বেশি, ১২ শতাংশ। তবে মানুষ কেন পুঁজিবাজারে আসবে? অনেকে আবারও ব্যাংকে আমানত রাখতে ছুটছে। এই ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমাতে হবে আর বেশি সুদে ব্যাংকের আমানত গ্রহণও বন্ধ করতে হবে।

আইসিবির কাছে ব্যাংকের ডিপোজিট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো বর্তমানে মোট ডিপোজিটের ১৫ শতাংশ জমা রাখতে পারে। তবে আমরা চাচ্ছি এই ডিপোজিটের পরিমাণ ৫০ শতাংশ করা হোক। এতে আইসিবির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুদ্রানীতিতে যেন কোনো নেতিবাচক বিষয় না আসে সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ে কারো সঙ্গে কিছুই আলোচনা করে না। আমরা কথা বলার বা আলোচনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু করতে পারিনি। ব্যাংকের এক্সপোজার মার্ক টু মার্ক হতে হবে। আমি যে টাকা দিয়ে শেয়ার কিনবো সেটাই এক্সপোজার ধরতে হবে। শেয়ার কেনার পর যদি দাম বেড়ে যায় এখানে কিছুই করার থাকে না। যার জন্য যে দামে শেয়ার কিনে সেটাই এক্সপোজার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ন্ত্রক। কিন্তু কোনো সমন্বয় নেই। আগে প্রতি মাসে রেগুলেটরদের সমন্বয় সভা হতো। এখন হয় না। এই সমন্বয় সভা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণায়লকে উদ্যোগ নিতে হবে।

এমএএস/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :