বেড়েছে হকারের উৎপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১১ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

দিন যত যাচ্ছে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ততই জমে উঠছে। মেলা প্রাঙ্গাণে বাড়ছে হকারদের সমাগমও। মেলার প্রবেশ পথের দায়িত্বে থাকা এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী অনৈতিক সুবিধা নিয়ে হকারদের প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেলার অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল মালিকের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার থেকে মেলায় হকারদের উৎপাত বেড়ে গেছে। হকার উচ্ছেদের জন্য মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ভিআইপি গেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ হকারদের মেলায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। গেটে দায়িত্বরতদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ‘মুষ্টিবদ্ধ’ টাকা। হকাররা মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে পছন্দের মতো স্থানে বিশেষ করে মেলার গলির মুখে তারা বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করছেন।

মেলা প্রাঙ্গণে পণ্য বিক্রি করা এমন সাত হকারের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। তারা জানান, মেলার মাঠে প্রবেশ করতে গেটে বস্তাপ্রতি ৬০০ টাকা করে দিতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষ মাল বেশি হলে টাকার পরিমাণও বেশি দিতে হয়।

h

ভ্রাম্যমাণ ঘুড়ি বিক্রেতা মো. জামালের কাছে ক্রেতা সেজে দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি ঘুড়ির দাম ১০০ টাকা। এতো দাম কেন- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাইরে একটি ঘুড়ি বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। এখানে ১০০ টাকায় বিক্রি না করলে খরচের টাকা উঠবে না। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় মেলায় ঢুকতে কতো টাকা দিতে হয়েছে। উত্তরে জামাল বলেন, আমার জন্য ৩০ টাকা। আর বস্তার জন্য ৬০০ টাকা।

ফু দিয়ে বুদবুদ বের করা খেলনা বিক্রেতা সাইফুল হোসেন বলেন, একটি খেলনা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এ দামে খেলনা বিক্রি করলে মেলায় প্রবেশের টাকা তুলতে অন্তত ৩০টি খেলনা বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় লোকসান হবে। কারণ মেলার ভেতরে একটি বস্তা আনতে ৬০০ টাকা দিতে হয়। আর প্রতিপিস খেলনার জন্য আরো ৫০ টাকা লাগে।

hh

মেলায় অংশ নেয়া ফুল, খাদ্য ও খেলনা বিক্রির একাধিক স্টলের মালিক বলেন, হকারদের কারণে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রি কম হচ্ছে। অথচ মেলা প্রাঙ্গণে হকারদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

তাদের অভিযোগ, শুধু হকার নয়, প্রতিনিয়ত টোকাইরাও এসে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছে। কিন্তু কেউ এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এমএএস/এমএআর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :