প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫১ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮
প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

নারীদের জিভে জল আনা অন্যতম এক রসনার নাম আচার। টক-ঝাল-মিষ্টিসহ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের বাহারি আচারের পসরা সাজিয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী চলে প্রাণ আচার উৎসব-২০১৮।

এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয় প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতা-২০১৭ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

সারাদেশ থেকে ৩ হাজার ৬৯২ জন প্রতিযোগীর পাঠানো ৮ হাজার ৩০৮টি আচারের মধ্য থেকে ২০১৭ সালের ‘বর্ষসেরা আচার’ নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও টক-ঝাল-মিষ্টি ও অন্যান্য-এই চারটি বিভাগ থেকে ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

achar-2-bআচার বানিয়ে সুনামগঞ্জের শরিফা আক্তার পান্না বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে জিতে নিয়েছেন দুই লাখ টাকা পুরস্কার।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

টক বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে কুমিল্লার রাবেয়া আক্তার শান্তা, সিলেটের হাসনাত জাহান শিমু ও ঢাকার মনোয়ারা হক। মিষ্টি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জের উষান, ঢাকার রাজিয়া খানম ও খাদিজা হোসাইন।

ঝাল বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে বরিশালের ইরতিফা মৌমি, ঢাকার দিলরুবা কাকন ও সিলেটের কুমকুম হাজেরা। অন্যান্য বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জের আফরোজা বেগম, নীলফামারীর তাসলিমা সরকার ও ঢাকার আসমা বেগম।

প্রতিটি বিভাগের প্রথমস্থান অধিকারীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা, দ্বিতীয়কে ওয়াশিং মেশিন এবং তৃতীয়কে মাইক্রোওয়েভ ওভেন পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৫জন পেয়েছেন শুভেচ্ছা পুরস্কার।

ahsan-2-bঅনুষ্ঠানে প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, প্রতিনিয়ত আপনাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যেমে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি ব্যবসা ভালোবাসি, ক্রয়-বিক্রয় ভালোবাসি, তাই তো আপনাদের কাছ থেকে শেখা এসব রেসিপি নিয়ে আচার বানিয়ে আমরা বিপণন করতে চাই। আপনার তৈরি আচারের রেসিপি সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র পরিসর থেকে আমাদের কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছিল কিন্তু আজ এখানকার প্রতিটি কর্মীর আন্তরিকতা ভালোবাসা, চেষ্টায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এ অবদান আপনাদের সবার। বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টি দেশে আমাদের পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। আজকের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এমন উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেই আমরা প্রতিনিয়ত শিখছি। আপনাদের থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের কোম্পানির প্রতিটি ব্যবসার পেছনে আমার মায়ের অবদান আছে। আমার বোনও আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা নারী, আপনারাও নারী। আপনাদের দেয়া অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আমাদের ব্যবসাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি নারীদেরও এগিয়ে নিতে চাই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আমজাদ খান চৌধুরী নারীদের সাবলম্বি করতেন। ওনার চেষ্টায় আজকের এই জাতীয় আচার প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা আজ নারীদের কাছে এক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। আর তাদের দিয়েই আরো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে দিনব্যাপী আচার উৎসবে রন্ধনশিল্পী এবং আচার শিল্পীদের অংশগ্রহণে আচার ও আচার দিয়ে তৈরি খাবার দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, অভিনেতা শহিদুল আলম সাচ্চুসহ সারাদেশ থেকে আগত প্রতিযোগীরা।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ফাতেমা সুরাইয়া, রন্ধন বিশারদ নাজমা হুদা, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নাদিয়া আহমেদ, নাট্যকার ও পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, সংবাদ উপস্থাপিকা শামীম আরা মুন্নি, অভিনেত্রী সালেহা খানম নাদিয়া, আচার শিল্পী জেবুন্নেসা বেগম, পুষ্টিবিদ সাজেদা কাসেম জ্যোতি, সংগীতশিল্পী সাজিদা সুলতানা পুতুল ও বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার জাহানারা আলম।

এএস/জেডএ