শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি, ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) কমানো এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। ফলে শেয়ারবাজারে ধস দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ডিএসই'র ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) নেতারা। রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএ এবং ডিবিএ’র পক্ষে বিএমবিএ’র মহাসচিব খায়রুল বাশার বলেন, সামনে দেশে কি যেন একটা হতে যাচ্ছে এমন একটি গুজবে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত। যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ৮ ফেব্রুয়ারি চলে গেলেই বুঝতে পারবেন আসলে কিছুই হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আজকে যারা শেয়ারের ক্রেতা ছিলেন, তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখিয়ে কম দামে শেয়ার কিনেছেন। তারা ওই তারিখটা চলে যাওয়ার পরেই প্রফিট করে নিবেন। তাই বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করবো দয়া করে শেয়ার এভাবে বিক্রি করবেন না।

ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সবাই এ বছরে শেয়ারবাজার চাঙা দেখতে চায়। এখন বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। পুঁজিবাজারে কোনো ধরনের সংকট নেই। এ সংকট কৃত্রিম এবং একটি ‘সার্টেন পয়েন্ট’ থেকে ছড়ানো হচ্ছে। শুধুমাত্র গুজবের ওপর বাজার পড়ে যাচ্ছে।

বাজারে কি ধরনের গুজব রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুজবটা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাই জানে। গুজবটা অনেকটাই রাজনৈতিক।

খালেদা জিয়া গ্রেফতার হতে পারেন গুজব কি এটা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি তো আপনারা জানেনই। তবে আগে রাজনৈতিক কারণে আমাদের পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। বরং হরতালে বাজারে লেনদেন বেশি হয়েছে।

বিএমবি’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকগুলোর এডিআর ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮৯ শতাংশ করে নির্দেশনা জারি করেছে। তবে এ এডিআর’র সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোনো সম্পর্ক নেই।

এমএএস/এএইচ/আইআই